প্রখ্যাত নাট্যকার হুমায়ূন আহমেদের বিটিভিতে প্রচারিত বহুল আলোচিত ধারাবাহিক নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’র টুনি চরিত্রের অভিনেত্রী নায়ার সুলতানা লোপার মরদেহ পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তোলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিট্রেট শামিমা বানু শান্তির উপস্থিতিতে লোপার লাশ তোলা হয়।
জানান, আদালতের নির্দেশে
গুলশান থানার এএসআই বিল্লাল হোসেন ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
গত ১৬ অক্টোবর রাজধানীর গুলশানে শ্বশুরবাড়ি থেকে ৩৫ বছর বয়সী লোপার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়।
ওইদিনই তার মা রাজিয়া সুলতানা গুলশান থানায় লোপার স্বামী আলী আমিনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন যাতে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়। এতে আমিনের বাবা-মাকেও আসামি করা হয়েছে।
মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে লোপার গলার ডানে এবং বাম হাতের কবজিতে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
ময়নাতদন্তে লোপার মৃত্যুর কারণ ‘আত্মহত্যা’ বলা হলেও তাতে আপত্তি জানিয়ে পুনরায় ময়নাতদন্তের আবেদন করেন তার মা।
গত ২৬ নভেম্বর ওই আবেদন গ্রহণ করে লোপার লাশ তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করতে ঢাকার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয় আদালত।
লাশ তোলার জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনসহ একজন নির্বাহী হাকিমকেও রাখতে বলা হয়।
১৬ অক্টোবর লোপার মায়ের মামলা দায়েরের পরপরই আসামি আমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদিকে, আলী আমিন দাবি করেন, গুলশানের ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে তার সঙ্গে ঝগড়ার জেরে লোপা আত্মহত্যা করেছেন। তখন তিনি বাড়ির বাইরে ছিলেন।
তবে মামলার এজাহারে লোপার মা তার মেয়ে জামাইকে ‘মাদকাসক্ত’ উল্লেখ করেছেন। প্রতিদিন লোপাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন আলী আমীন এবং এতে তার বাবা-মাও প্রশ্রয় দিতেন জানান তিনি।
এজাহারে বলা হয়, ঘটনার দিন দুপুর আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে কোনো এক সময় তারা তিন জন লোপাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে রাখে।
সেই সময়ে নাটকের শেষপর্যায়ে ‘টুনি’ অসুস্থ হয়ে পড়লে সারাদেশের অসংখ্য মানুষ হুমায়ূন আহমেদের কাছে চিঠি লিখে তার প্রাণ রক্ষার আবেদন জানান। আজ সেই টুনি আর সত্যেই পৃথিবী থেকে নেই হয়ে গেছে।