এক দুই বছর নয় মাত্র কুড়ি বছর আগে আসাম থেকে ট্রেনে চড়ে দিল্লি আসেন মনোজ রায় দুবেলা দুমুঠো খাবারের আশায়। অন্ধ সেজে ভিক্ষা করে যাচ্ছিলেন, হঠাৎই পাল্টে গেল তার জীবন। কারণটা আমির খানের নতুন সিনেমা ‘পিকে’।
কয়েক মাস আগে প্রতিদিনের মতোই ভিক্ষার থালা হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন মনোজ রায়। দুজন ভদ্রলোক এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন, অভিনয় করতে পারো?। মনোজের জবাব ছিল, অভিনয়ই আমার পেটের ভাত যোগায়। তারা থালায় ফেলে গেলেন ২০ রুপির নোট আর একটা ফোন নম্বর লেখা কাগজ।
সেই ফোন যিনি ধরলেন, তার কথা অনুযায়ী মনোজ চলে যায় নেহেরু স্টেডিয়ামে। সেখানে আরও সাত ভিখারি ছিলেন, যারা সবাই অন্ধ। মনোজের মাথায় অবশ্য একটা চিন্তাই ছিল, আগামী ৭/৮ দিন তাকে খাওয়ার চিন্তা করতে হবে না।
এরপর যা ঘটলো, মনোজ তা স্বপ্নেও কখনও ভাবেনি। দিল্লির এক পাঁচ তারা হোটেলে আমির খান, আনুশকা শর্মার মতো তারকাদের সঙ্গে থাকতে দেওয়া হলো তাকে।
সিনেমায় তার অভিনীত দৃশ্যটি মাত্র ৫ সেকেন্ডের, যেখানে ভিক্ষার থালা হাতে দাঁড়িয়ে থাকে সে আর আমির খান এসে তার থালা থেকে পয়সা তুলে নেন। কিন্তু এই ৫ সেকেন্ডের দৃশ্যটি তাকে তার গ্রামে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দিয়েছে, কারণ সিনেমার ট্রেইলারে এই দৃশ্যটি ব্যবহৃত হয়।
গ্রামের লোকজন এখন তাকে পিকে হানি সিং বলে ডাকে। তার এখন ফেইসবুকে একটা অ্যাকাউন্ট আছে, গ্রামের দোকানে একটা চাকরিও জুটে গেছে। এমনকি তার এখন একজন প্রেমিকাও আছে। আর এ সবকিছুর জন্য মনোজ ধন্যবাদ জানায় আমির খানকে।