মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত আমাদের অধিকার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে হবে জানিয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।
শুধু সমুন্নতই নয়, এর বিকাশে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।।
শুক্রবার রাজধানীর রমনা পার্কের উষা ও মহুয়া চত্বরে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে বাংলালিংক আয়োজিত দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ উৎসব’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘আমরা আমাদের সংস্কৃতি, কবিতা, গান ও ভাষাকে ভালবাসি বলেই তা রক্ষায় মুক্তিযুদ্ধ করেছি।’
তিনি বলেন, যাদের আত্মত্যাগে আমরা আমাদের ভালবাসার বিষয়গুলো পেয়েছি, তাদের অর্থাৎ সেই মুক্তিযোদ্ধা ভাই ও নির্যাতিত মা-বোনদের এই বিজয়ের মাসে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।
নূর বলেন, দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারের দিক থেকে অতীতের ন্যায় বর্তমানেও অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরতে বাংলালিংক যেহেতু কাজ করে যাচ্ছে, তাই তারা যদি সরকারের গ্রহণ করা উদ্যোগে সহযোগী হতে চায় তাহলে সরকার স্বাগত জানাবে।
এদিকে ‘বাজাও বাংলাদেশের ঢোল’ -স্লোগান নিয়ে দিনব্যাপী উৎসবে বাংলালিংক পুরো বাংলাদেশকে তুলে ধরার আয়োজন করেছে। দ্বিতীয়বারের মতো গ্রহণ করা জমকালো ও সুবৃহৎ এ উৎসবে বাংলাদেশের আবহমান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে উপস্থাপনই ছিল আয়োজকদের মূল উদ্দেশ্য।
উৎসবে সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলি খেলা, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, গ্রাম বাংলার বিয়ে, গরুর গাড়ি, তাঁত প্রদর্শনী, কামার ও কুমোর পাড়ার জীবনচিত্র, ঢুলি, গ্রাম্যমেলা, পিঠা উৎসব, নাগরদোলা ইত্যাদি নানা আয়োজনের পাশাপাশি নানা স্বাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার, সমাগত অভ্যাগতদের প্রকৃত বাঙালী আমেজ পেতে বা নস্টালজিয়ায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছে।
উৎসবের মুক্তমঞ্চে সকাল থেকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান ও কবিতা, মাইকেল মধুসূদন দত্তের সনেট, ফকির লালন শাহ’র বাউল গান, হাসন রাজা ও শাহ আব্দুল করিমের লোকগীতি থেকে শুরু করে দেশজ ঐতিহ্যের বিভিন্ন সঙ্গীত, যেমন- ভাওয়াইয়া, গম্ভীরা ইত্যাদি পরিবেশিত হচ্ছে।
বৃহৎ এ উৎসবে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে খ্যাতিমান শিল্পী এসএম সুলতানের প্রতি উৎসর্গকৃত ১০০ ফুট দীর্ঘ ক্যানভাসের চিত্রকর্ম। শুধু তা-ই নয়, পাহাড়ি ঐতিহ্য তুলে ধরতে মুক্তমঞ্চের পাশেই পাহাড়ি মঞ্চে দিনব্যাপী পাহাড়ি নাচ পরিবেশিত হয়। এছাড়া খেয়াঘাট ও বইমেলা আগত দর্শনার্থীদের অন্যরকম আনন্দে ভাসিয়ে নেবে।
আব্দুর নূর তুষার, আমরিন ও টয়ার সঞ্চালনায় দিনব্যাপি এ উৎসবে সামিনা চৌধুরী, বারী সিদ্দিকী, কনকচাঁপা, বাপ্পা মজুমদার, এসআই টুটুল, পারভেজ, পূর্ণ, কোনাল ও এলিটা গানে গানে দর্শকদের হৃদয় ভরিয়ে দেবেন বলে আয়োজকরা জানান। এছাড়া অর্কেস্ট্রা ও ফিউশনের মাধ্যমে ব্যান্ড সঙ্গীতশিল্পী নগর বাউল জেমস ও চিরকুট ব্যান্ড উৎসবের শেষ লগ্নে পরিবেশন করবে ব্যান্ডসঙ্গীত।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী তিমির নন্দী, শাহীন সামাদ, বুলবুল মহলানবীশ, রফিকুল ইসলাম, অনুপ ভট্টাচার্য ও তপন মাহমুদের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা...’ পরিবেশনের সঙ্গে সঙ্গে প্রধান অতিথির জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে সূচনা হয় উৎসবের।
পরে বাংলাদেশ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্য সুন্দর...’ ও ‘গ্রামছাড়া ওই রাঙামাটির পথ...’ এবং বাংলাদেশ নজরুলসঙ্গীত শিল্পী পরিষদের শিল্পীরা সমবেত কন্ঠে ‘একি অপরূপ রূপে মা তোমায়...’, ‘দুর্গমগিরি কান্তার মরু...’ ও ‘এই শিকল পড়া ছল মোদের এই শিকল পড়া ছল...’ গানগুলো পরিবেশন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমেদ, কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, হুয়ায়ই টেকনলোজিস বাংলাদেশ লিমিটেডের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার লি জুন ও বাংলালিংকের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর সাকিব আল হাসান। বাংলালিংকের পক্ষে স্বাগত বক্তৃতা দেন চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার আহমাদ হালিম ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার শিহাব আহমাদ।