বেশ কয়েকজন গুণী মানুষকে ২০১৪ সালে হারিয়েছে দেশ। যারা আজীবন কাজ করে গেছেন দেশ ও মানুষের কল্যাণে। জাতির দুর্দিন সংকটে দিয়েছেন সঠিক দিক-নির্দেশনা। না ফেরার দেশে চলে গেলেও জাতি আজীবন মনে রাখবে এ কৃতি মানুষগুলোকে।
২০১৪ সালের প্রায় শুরুতেই জানুয়ারির ১১ তারিখে মারা যান সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। একাধারে গবেষক, লেখক, শিক্ষাবিদ হাবিবুর রহমান ৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবিএম মূসা মারা যান এ বছরের ৯ এপ্রিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন বিদেশী পত্রিকায় রণাঙ্গন থেকে সংবাদ পাঠাতেন তিনি। বয়স-ব্যাধি কোন কিছুই থামাতে পারেনি আপাদমস্তক সাংবাদিক এ মানুষটিকে। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত লিখে গেছেন। নির্ভিক চিত্তে করে গেছেন মত প্রকাশ।
১৫ জুন মারা যান বিশিষ্ট লেখক-দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ সরদার ফজলুল করিম। দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শোষণমুক্ত, জ্ঞানমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন বামপন্থী এ বুদ্ধিজীবী। বিপ্লব আর আদর্শের জন্য চাকরি ছেড়েছেন, জেলও খেটেছেন কয়েকবার।
নজরুল সঙ্গীতের কিংবদন্তী ফিরোজা বেগম মারা যান ৯ সেপ্টেম্বর। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে সঙ্গীতের জগতে তার পদচারণা। নজরুল সঙ্গীতকে বিশ্বময় সমাদৃত করতে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার।
৮ অক্টোবর মারা যান ভাষা সৈনিক আবদুল মতিন। ৫২'র ভাষা আন্দোলনে তার নেতৃত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বের হয় মিছিল। অকুতোভয় এই ভাষা সৈনিক মুক্তিযুদ্ধেও রেখেছেন অসামান্য অবদান। কমরেড মতিন রাজনীতির পাশাপাশি লিখেছেন বিভিন্ন বইও।
জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি সৈয়দ মাঈনুল হোসেন মারা যান ১৯ অক্টোবর, ৬২ বছর বয়সে। মাত্র ২৬ বছর বয়সে দেওয়া তার নকশা অনুসারেই সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। স্মৃতিসৌধ ছাড়াও ৩৮টি বড় বড় স্থাপনার নকশা করেছেন তিনি।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী মারা যান ১১ নভেম্বর। শিক্ষকতার পাশাপাশি লিখেছেন প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনী। দায়িত্ব পালন করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবেও।
৩০ নভেম্বর রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসবে বক্তব্য দেয়ার সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বরেণ্য চিত্রশিল্পী কাইয়ূম চৌধুরী। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে চারুকলাসহ সাংস্কৃতিক জগতকে সমৃদ্ধ করে গেছেন তিনি।
সোনালী আঁশের সুদিন ফেরানোর স্বপ্ন দেখানো বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম মারা যান ২০ ডিসেম্বর। তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। তার নেতৃত্বেই তোষা পাটের জীবন রহস্য উন্মোচন, বিশ্বে বাংলাদেশকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি। ২০১৩ সালে তারই নেতৃত্বে দেশি পাটের জীবন রহস্য উন্মোচিত হয়।
এছাড়া প্রবীণ সাংবাদিক মাহবুবুল আলম, আর্ন্তজাতিক বিশ্লেষক জগলুল আহমেদ চৌধুরী, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য বেবী মওদুদ, শিল্পী বশির আহমেদ, পণ্ডিত রামকানাই দাশসহ আরো অনেক গুনীজনকে এ বছর হারিয়েছি আমরা।