একুশে বইমেলায় শেষ সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পাঠকের ভিড় ছিলো বেশ। আর মাত্র একদিন- তারপরই ভাঙবে মিলনমেলা; এ সময় সবাই ব্যস্ত কেনার মতো আর কোনো বই বাদ পড়লো কিনা তা দেখতে। মানুষের ভিড়ে দাদা-নানাদের হাত ধরে মেলায় শেষ সময়েও আসছে ভবিষ্যত পাঠকরাও। নতুন প্রজন্মের কাছে বই মেলাকে তুলে ধরতেই তাদের নিয়ে আসা- জানান উত্তরসূরীরা।
একে তো ছুটির দিন তার ওপর মেলার শেষ মুহূর্ত। বইপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়ে টইটম্বুর পুরো একাডেমি প্রাঙ্গন।
দেখেশুনে বই কেনার অবস্থা নেই বেশিরভাগ স্টলে। তাই এ কাজটি আগেই সেরে রেখেছেন অনেকে। এখন শুধু স্টল ঘুরে ঘুরে বই কেনার পালা।
সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে প্রকাশকদের। পছন্দের বইটি পাঠকের হাতে তুলে দিতে পেরে তাই শেষ হাসিটা যেন হাসছেন তারাই। জানান, বিক্রি হচ্ছে প্রত্যাশা অনুযায়ী।
নানীর সঙ্গে মেলায় এসেছে ছোট ফারহান। শুধু ফারহান নয় এমন অনেকেই আছে যারা পূর্বসুরিদের হাত ধরে প্রাণের মেলার সঙ্গে ধীরে ধীরে আত্মার সর্ম্পক গড়ে তুলছে নিজেদের অজান্তে।
একুশের বইমেলার সার্থকতাটাও যেন অনেকটা এখানেই। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে গড়ে উঠছে ভাললাগার আবহ। দেশকে, মাতৃভাষাকে জানার আগ্রহ। নিজেদের সংস্কৃতির অন্যতম অংশ এ বই মেলাকে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দেয়ার প্রয়াস থেকেই ছোটদের মেলায় নিয়ে আসা।
আর বড়দের সঙ্গে আসা ভবিষ্যত পাঠকরাও আনন্দ নিয়েই ঘুরছে পুরো মেলা প্রাঙ্গন।
একুশের বই মেলা শুধু যে বই কেনা-বেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এমন সম্পর্কগুলো যেন তাই মনে করিয়ে দেয়।