‘নীল নবঘনে আষাঢ়গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে’ তেমনই সঘন-সজল এখন বাংলার প্রকৃতি। জলবতী বর্ষার দিন পহেলা আষাঢ় শুরু হলো আজ। বাঙালির অন্যতম প্রিয় ঋতু বর্ষা। লঘু মেঘের ভেলায় ভেসে প্রকৃতি প্রবেশ করলো বর্ষা ঋতুতে। গানে-কবিতায় বাংলার কবিরা করেছেন বর্ষা-বন্দনা।
গুরু-গুরু মেঘের গর্জন, মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ চমক, যখন-তখন ঝলমলে আকাশজুড়ে ধূমল মেঘের ঘনঘটা আর অঝোরধারার বর্ষণ—এই হলো বাংলায় বর্ষার চিরচেনা রূপ। শুরুর দিন থেকেই রাজধানীর আকাশ মেঘলা। প্রতি বছরের মতো এবারো বাংলা একাডেমিতে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজন করে বর্ষাবরণ উৎসব। সোমবার সকাল থেকেই নগরবাসী যোগ দিয়েছেন বর্ষা-আবাহনের এ উৎসবে।
পঞ্জিকা অনুসারে আজ পহেলা আষাঢ় হলেও এবার বর্ষা বাংলার আকাশে এসেছে একটু আগে ভাগেই। আজ তাই বর্ষা বরণের সকালটাও আসে মেঘের ভেলায় ভেসে। মেঘলা আকাশ আর নুপুরের ঝংকারে বাঙালির অন্যতম প্রিয় এ ঋতু-বরণ উৎসবের শুরু বাংলা একাডেমি চত্বরে।
বাঙালির মানসে, সৃজনেও বর্ষার প্রভাব-প্রতিক্রিয়া সুদূরপ্রসারী। কাব্য, সংগীত, সাহিত্য, চিত্রকলায় বর্ষা বৈচিত্র্যময়; রূপে, ছন্দে, স্পন্দনে উদ্ভাসিত। বিশেষত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সংগীত ও কাব্যের একটা বিরাট অংশ বর্ষাবন্দনায় মুখরিত। বিদগ্ধজনেরা বলেছেন, বাংলার বর্ষাকে কবিগুরু নতুন করে আবিষ্কার করেছেন।
কি গান, কি কবিতায়- বর্ষা নিয়ে অন্তহীন উচ্ছাসের প্রকাশ ঘটিয়েছেন বাংলার কবিরা। ঋতু ভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক উৎসবগুলোকে ছড়িয়ে দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উদীচী বলে জানালেন উদীচী শিল্পী গোষ্ঠির সভাপতি কাজী মোহাম্মদ শীশ।
বর্ষণের স্নিগ্ধ প্রলেপে প্রকৃতিকে সঞ্জীবিত করতে আসে বর্ষা। উৎসবে শামিল হয়ে নগরবাসীও যেন সঞ্জীবিত হন বর্ষার বৃষ্টিধারায়।
তবে বর্ষা উৎসব এখন শুধু প্রকৃতিকে সিক্ত করা আর কৃষকের শস্য বোনার ঋতুতেই সীমাবদ্ধ নেই। পরিণত হয়েছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষার আন্দোলনেও।