মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার বীর উত্তম কর্নেল আবু তাহেরের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (মঙ্গলবার)। সকালে এক স্মরণ সভায় অংশ নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক তাহেরের হত্যাকারী জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচারের দাবি জানান। কর্নেল আবু তাহেরকে এ দিনে সামরিক আদালতে প্রহসনের বিচার করে ফাঁসি দেয়া হয়। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদসহ বিভিন্ন সামাজিক- রাজনৈতিক সংগঠন এই দিবসটিকে পালন করে তাহের হত্যা দিবস হিসেবে।
লুৎফা তাহেরের জন্য এ এক অভিশপ্ত দিন। ১৯৭৬ সালের কথা। প্রহসনের বিচারে ফাঁসির দণ্ড পেয়ে কর্নেল তাহের কারাগারের অন্ধকার থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। একে একে পার হয়ে গেছে ৩৯ বছর। আজো তিনি আছেন সেই দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে।
সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে জাসদ কার্যালয়ে তাহেরের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। জাসদের সভাপতি হাসানুল ইনুসহ জাসদের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা শ্রদ্ধা জানান।
পরে স্মরণসভায় অংশ নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু অভিযোগ করেন, এদেশকে পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের স্থায়ী নিবাস করতেই কর্নেল তাহেরকে খুন করা হয়েছিল। বর্তমানেও সেই অশুভ শক্তির সেই ষড়যন্ত্র থেমে নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কর্ণেল তাহের ১১ নং সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। সম্মুখ সমরে পা হারান তিনি। মুক্তিযুদ্ধের পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে থাকলেও মতবিরোধের কারণে পদত্যাগ করেন।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, সেনা অভ্যূত্থান, পাল্টা অভ্যূত্থানের মধ্যদিয়ে, খালেদ মোশাররফের পতন, ক্ষমতায় জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার। পরে জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকারের আনীত অভিযোগে সামরিক ট্রাইব্যুনালে গোপন বিচারে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেয়া হয়। এ গোপন বিচারকে চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ২২ মার্চ, সেই দন্ড বাতিল করে দেয় হাইকোর্ট। ২০১৩ এর ২০ মে প্রকাশিত হয় পূর্ণাঙ্গ রায়।