চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৯১তম জন্মজয়ন্তী আজ (সোমবার)। কীর্তিমান এ শিল্পী রং তুলির আঁচড়ে ক্যানভাসে তুলে এনেছেন দেশ, মাটি ও মেহনতি মানুষের জীবন। বাংলার চিত্রকলাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিশ্ব দরবারে।
অমিত উদ্যম, সৃষ্টিশীল মনন, আর এ দুইয়ের সমন্বয়ে ক্যানভাসে প্রিয় গ্রামবাংলার দৃপ্ত উপস্থাপন।
এস এম সুলতান! যার রং তুলি আর ক্যানভাসের উপজীব্য মাটি আর মানুষ। একেঁছেন জল-জেলে-নৌকা, পাট কাটা, ধান ভানা, চর দখল ও মাছ ধরার মতো গ্রাম বাংলার অসংখ্য ছবি। তিনিই একমাত্র বাঙালি চিত্রকর যার আঁকা ছবি, পাবলো পিকাসো, ডুফি, সালভাদর দালির ছবির সঙ্গে প্রদর্শিত হয়।
১৯২৪ নড়াইলের চিত্রা পাড়ের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্ম শিল্পী এস এম সুলতানের। ব্যক্তি জীবনে ছিলেন ভবঘুরে আনমনা প্রকৃতির। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় বেশি দূর এগুতে পারেননি। তবে, আঁকাআঁকির ঝোঁক সেই ছোট বেলাতেই। জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন, ছবি আঁকাতেই। পেয়েছেন, একুশে ও স্বাধীনতা পদক। ভূষিত হয়েছেন দেশী-বিদেশী সম্মাননায়। কিন্তু মৃত্যুর পর তার আঁকা ছবিগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা যায়নি।
বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা সুলতানের ছবিগুলো সংগ্রহ করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানালেন নড়াইল জেলা প্রশাসক।
শিশুদের ছবি আঁকা শেখার জন্য তার বাড়িতে শিশুস্বর্গ নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। নির্মাণ করেন শিশুস্বর্গ নামের একটি নৌকাও। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর জীবনাবসান হয় কীর্তিমান এ শিল্পীর।