সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমী পূজা আজ (বুধবার)। একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত দুর্গাপূজার অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পূজা। মহাঅষ্টমী পূজার পাশাপাশি নগরীর ২/১টি পূজা মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা। সব নারীতে মাতৃত্বরূপ উপলব্ধি করাই কুমারী পূজার প্রধান লক্ষ্য।
৫ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং জাঁকজমকপূর্ণ দিন। দেবীর সন্ধ্যাপূজা আর কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। কুমারী বালিকার মধ্যে শুদ্ধ নারীর রূপ চিন্তা করে তাকে দেবী মনে পূজা করবে ভক্তরা।
হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা কুমারীকে পূজার উল্লেখ রয়েছে। ব্রাহ্মণ অবিবাহিত কন্যা অথবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পূজা করার বিধান রয়েছে। বয়সভেদে কুমারীর নাম হয় ভিন্ন।
এক বছর বয়সে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কালিকা, পাঁচে সুভাগা, ছয়ে উমা, সাতে মালিনী, আটে কুজ্বিকা, নয়ে অপরাজিতা, দশে কালসন্ধর্ভা, এগারোয় রুদ্রাণী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষী, চৌদ্দয় পীঠনায়িকা, পনেরোয় ক্ষেত্রজ্ঞা ও ষোল বছরে অম্বিকা বলা হয়ে থাকে।
শাস্ত্রানুসারে অজাতপুষ্প সুলক্ষণা কুমারীকে ‘দেবীদুর্গাজ্ঞানে’ পূজা করা হয়। অষ্টমীতে নির্বাচিত কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন বস্ত্র পরানো হয়। হাতে দেয়া হয় ফুল, কপালে সিঁদুরের তিলক ও পায়ে আলতা।
যথাসময়ে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে পূজা করা হবে কুমারীকে। কুমারী পূজার মাধ্যমে নারী জাতি হয়ে উঠবে পূত-পবিত্র ও মাতৃভাবাপন্ন।
কুমারী পূজার পাশাপাশি দেবী দুর্গার সকালে মহা অষ্টমীবিহিত পূজা, দুপুরে সন্ধি পূজা ও মহাপ্রসাদ বিতরণ, সন্ধ্যায় আরতি অনুষ্ঠিত হবে।