শারদীয় দুর্গোৎসব এখন বিদায় পর্বে। বৃহস্পতিবার একইসঙ্গে মহানবমী ও দশমীবিহিত পূজার অর্চনা ও আচার-আনুষ্ঠানিকতা পালন করছে ভক্তরা। আজ প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের দুর্গাপূজা। তবে ‘মা’কে বিসর্জন দেয়া হবে আগামীকাল (শুক্রবার)।
মহানবমী দুর্গা পূজার শেষ তিথি। এ মহাক্ষণে দেবকূল দেবীর বন্দনা করেন। ভোরে দেবীর মহানবমী কল্পারম্ভ এবং নবমীবিহীত পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় নবমীর আনুষ্ঠানিকতা। যজ্ঞের মাধ্যমে মায়ের কাছে আহুতি দেয়া।
মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি জানিয়েছে, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে আজ সকাল ৭টা ৩৩ মিনিটের মধ্যে মহানবমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা হবে। আর সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দশমীবিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জন হবে। আর এরই মধ্য দিয়ে শেষ হবে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
বিদায় আসন্ন। তাই মাকে আরো এক নজর দেখতে আসেন ভক্তরা। এর পরপরই শুরু হয় বিজয়া দশমীর ক্ষণ। মাকে বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। তাই ভক্তরা যুগপৎ আনন্দ আর বিষাদে ভারাক্রান্ত। মন ভারাক্রান্ত হলেও হাসিমুখে সেরে নেয়া হয় বিজয়া দশমীর দশমীবিহীত পূজা অর্চনার কাজটি।
অঞ্জলি গ্রহণ শেষে ছিল দেবী দুর্গার দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা। অতঃপর মা-দুর্গার চরণে আর নিজেদের মধ্যে সিঁদুর পরিয়ে দেয়ার পালা।
পঞ্জিকামতে, আনন্দময়ী দুর্গা এবার এসেছেন ঘোড়ায় চড়ে, ফিরে যাবেন দোলায়। এবার সারাদেশে ২৯ হাজার ৭৪টি পূজামণ্ডপে হচ্ছে দুর্গাপূজা, যা গতবারের চেয়ে ৭০০ বেশি।
শরৎকালে শত্রু বধ করেছিলেন বলে দেবী দুর্গার আরেক নাম শারদেশত্রুনাশিনী। লোকালয়ে দেবীর আগমন তাই পৃথিবী থেকে সকল অশুভ শক্তি দূর করবে।