তিন মাস বর্ষাব্রত শেষে নানা আয়োজন আর আনুষ্ঠানিকতায় প্রবারণা পূর্ণিমা পালন করছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। বৌদ্ধ ধর্মমতে, এই তিথিতে মাতৃদেবীকে ধর্মদেশনার পর মহামতি গৌতম বুদ্ধ তাবতিংশ স্বর্গ থেকে সাংকস্য নগরে অবতরণ করেছিলেন। ৬০ জন ভিক্ষুকে দিয়েছিলেন ধর্মবাণী প্রচারের নির্দেশনা।
অন্যতম এ উৎসব উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতে চলছে বিশেষ প্রার্থনা। সন্ধ্যায় ওড়ানো হয় ফানুস। জগতের সবার সুখ, শান্তি আর কল্যাণ কামনায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের পর সম্মিলিত প্রার্থনা করেন ভক্তরা।
অনৈতিক সকল কিছু থেকে প্রকৃষ্টরূপে বারণ করার নামই প্রবারণা উৎসব। বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম এ উৎসবের আরেক তাৎপর্য হল, এ তিথিতে মাতৃমুক্তির উদ্দেশ্যে তাবতিংশ স্বর্গ থেকে সাংকস্য নগরে অবতরণ করেছিলেন মহামতি গৌতম বুদ্ধ।
এ দিনেই জগতের সকল জীবের হিতের মর্মবাণী দিকে দিকে ছড়িয়ে দিতে ৬০ জন ভিক্ষুকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।
পাপ থেকে মুক্তি পেতে আষাঢ়ী থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস অষ্টশীল পালনের মধ্য দিয়ে বর্ষাবাস ব্রত আর বিহারে ভিক্ষুদের সংযম পালনের পর এ দিনে পালিত হয় প্রবারণা উৎসব।
বর্ষাবাসের শেষ দিন অর্থাৎ প্রবারণা পূর্ণিমার দিন মহামতি বৌদ্ধের কাছে মঙ্গল প্রার্থনা করেন ভক্তরা।
আকাশে ভাসমান গৌতমের কেশধাতুকে প্রদীপ দিয়ে বন্দনার জন্য মোমবাতি প্রজ্জলন আর ধুপধুনো দিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওড়ানো হয় ফানুস।
বুধবার থেকে আগামী এক মাস একেক বিহারে কঠিন চীবর দান পালন করবেন বুদ্ধের অনুসারীরা।