রাঙামাটির রাজবনবিহারে চলছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান। বৃহস্পতিবার দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধন করেন চাকমা সার্কেল চীফ ব্যরিস্টার দেবাশীষ রায়। এ উপলক্ষে রাজবন বিহার এলাকায় বসেছে মেলা।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, গৌতম বুদ্ধের সময় মহা উপাসিকা বিশাখা প্রবর্তিত চীবর দানই হলো কঠিন চীবর দান উৎসবের মূল লক্ষ্য। বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী প্রতি বছর আশ্বিন মাসের ১৬ তারিখ থেকে কার্তিক মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান শেষ করতে হয়। এ অনুষ্ঠান দুই দিনে হয়ে থাকে।
রীতি অনুযায়ী, প্রথম দিন বৃহস্পতিবার, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চরকা দিয়ে তুলা থেকে সুতা তৈরি করে, সেই সুতায় বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় রং করে বেইনের মাধ্যমে চীবর বা কাপড় তৈরি করা হয়। শুক্রবার বিকালে এই চীবর ভান্তেদের প্রতি উৎসর্গ করা হবে।
কঠিন চীবর দানের ফলে বৌদ্ধ ভিক্ষু ও দায়ক-দায়িকারা ৫টি পূণ্যের ফল পেয়ে থাকেন। এর মধ্য দিয়ে ইহকাল ও পরকালে সুখ-সমৃদ্ধি লাভ করা যায় বলে বিশ্বাস বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের।
এ উৎসব উপলক্ষে জেলার বিহারগুলোতে ভিড় করেছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এ উৎসব।