বাংলা নববর্ষ, পহেলা বৈশাখ। যে দিনটিতে সারাদেশের মানুষ বাঙালিত্বের মন্ত্রে দীক্ষিত হয় আরো একবার। আর তাইতো বাংলা নতুন বছর ১৪২৩-এর প্রথম দিনটিকে বরণ করতে প্রস্তুতি শুরু করেছে পুরো জাতি।
প্রতি বছর বিভিন্ন মুখোশ পরে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অনেকে অংশ নিলেও, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এবার তা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে সঠিক বলেই মনে করছেন মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজকরা।
চৈত্রের দুপুরের গনগনে রোদ। ক্ষণে ক্ষণে গাছের ছায়া দোলা দিয়ে গেলেও, রোদ এসে পরক্ষণেই পড়ছে মাথার ওপর। তাতেও থেমে নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের বৈশাখী প্রস্তুতি। বাঙালির প্রাণের উৎসব নববর্ষকে বরণের আয়োজনে ব্যস্ত তারা।
জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালির এ স্বতন্ত্র উৎসবের শোভাযাত্রাটির প্রস্তুতিও হরদমে চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায়। শোভাযাত্রার অর্থ জোগাতেও দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রমে শিক্ষার্থীরা।
এখনো দেখে বোঝার উপায় নেই কিসের অবয়ব। তবে এই ভাস্কর্যই ধীরে ধীরে আকার পাবে শিল্পে। মায়ের কোলে শিশুর নিরাপদ আশ্রয়ের এই শিল্পকর্মের মতোই লোকাচারের নানা অনুসঙ্গ নিয়ে সমৃদ্ধ হবে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা।
এই মঙ্গল শোভাযাত্রা সুচারুভাবে আয়োজনে অর্থের জোগানও করতে হচ্ছে চারুকলার শিক্ষার্থীদেরই। তাই নিজেদের তৈরি ফুল, পাখি আর মুখোশের পসরা নিয়ে বসেছে বিক্রির জন্য।
বরাবরের মতোই বাংলা সংস্কৃতির সবকিছুই থাকবে এবারের আয়োজনে। থাকছে ময়ুর, হাতি, ষাঁড়, টেপা পুতুল, বাঘ, হরিণ, পানসি, মাছের প্রতিকৃতি।
সারাবিশ্বের বাঙালির কাছে নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরতেই নিরলস এই প্রয়াস- জানালেন শিক্ষার্থীরা। সেইসঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতির তাৎপর্যও তুলে ধরা হবে রং তুলির আঁচড়ে, শিল্পের আখরে।