হৈ-হুল্লোড়, র্যালি, পানিতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে রাজধানীতে পালিত হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম বাসীদের বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজন করে এ উৎসবের।
বৈসুক, সাংগ্রাই ও বিজু তিনটি অনুষ্ঠানের সমন্বয়ে পার্বত্য জেলাবাসীর এ উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর আর্ন্তজাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী।
বিজু পাহাড়ি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর প্রধান উৎসব। বাংলা বছরের শেষ দুদিন ও নববর্ষের প্রথম দিন বিজু পালন করা হয়। ত্রিপুরাদের বৈসুক থেকে বৈ, মারমাদের সাংগ্রাই থেকে সা এবং চাকমাদের বিজু থেকে বি -একসঙ্গে বৈসাবি নামে পরিচিত। উৎসবের প্রথম দিন ঘরবাড়ি ও আঙিনা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে ফুল দিয়ে সাজানো হয়।
এরপর তিন পার্বত্য জেলার তরুণ-তরুণী, শিশুসহ সবস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
র্যালি শেষে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্রিসেন্ট লেকের পানিতে ফুল ভাসিয়ে দিয়ে পুরোনো বছরের গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে উৎসব পালন করেন তরুণ-তরুণীরা।
এদিকে, পার্বত্য জনপদও মুখর হয়েছে বৈসাবি উৎসবে। তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে নতুন বছরকে বরণে নানা আচার-আনুষ্ঠানিকতা। বৈসু, সাংগ্রাই ও বিজু উৎসবে মেতে ওঠেন ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ।
ত্রিপুরা ভাষায় বৈসুক, মারমাতে সাংগ্রাই ও চাকমা ভাষায় বিঝু। তিন সম্প্রদায়ের প্রাণের এ উৎসবের নামের আদ্যাক্ষর মিলেই বৈসাবি। বর্ষবরণ আর বিদায়ের উৎসব বৈসাবির আনন্দে মুখর রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান।
পাহাড়-হ্রদ আর অরণ্যের শহর রাঙ্গামাটি সেজেছে বৈসাবির রংয়ে। বর্ষবিদায় আর বর্ষবরণের এক ঐতিহ্যবাহী উৎসব, বৈসাবি। শহরের গর্জনতলী হ্রদের জলে ফুল ভাসিয়ে বৈসুক-এর প্রথম দিন "হারিবইসুক" পালন করেছেন ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী। নতুন বছর যেন শুভ ও মঙ্গলময় হয়, সে প্রত্যাশা তাদের।
ঘর সাজানো, বুধবার আত্মীয়-পড়শির বাড়ি বেড়ানো, বৃহস্পতিবার গোজ্যাপোজ্যার দিন বা নববর্ষ, আর পরের দিন, মারমা সম্প্রসায়ের সাংগ্রাই জল উৎসবের মাধ্যমে শেষ হবে পাহাড়ের এ প্রাণের উৎসব। পুরনো বছরের সব দুঃখ, গ্লানি, ব্যর্থতা মুছে আগামী দিনগুলো হয় যেন হয় আনন্দ ও উৎসবময় এমন প্রার্থনা সকলের।
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবের নাম বৈসাবি। প্রতিবছরের ১২ এপ্রিল চাকমাদের ফুল বিজুর মধ্য দিয়ে পাহাড়ে উৎসবের আমেজ শুরু হয়। এবারও পুরাতন বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে সূর্য উঠার আগে নদীতে ফুল ভাসিয়ে দিনটি শুরু করেন খাগড়াছড়িবাসী।
এছাড়াও বৈসাবি উৎসবে প্রত্যন্ত এলাকায় চলছে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা। শুরু হয়েছে বৈসাবি মেলাও।