বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস—বাংলাদেশের গণমাধ্যম নিয়ে নিয়ে এক গবেষণা প্রতিবেদন বলছে ৮২% মানুষ টেলিভিশনের ওপর নির্ভরশীল আর সবচেয়ে দর্শকপ্রিয় টেলিভিশনের সংবাদ। এদিকে, ৫% মানুষ পত্রিকা পড়ে। তবে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
এমন প্রেক্ষাপটেও দেশে গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় সংশ্লিষ্টরা। প্রস্তাবিত সম্প্রচার নীতিমালার বিতর্কিত কিছু ধারা, সাংবাদিক হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে না পারা ও দুর্বল বেতন কাঠামো এবং ভিনদেশি চ্যানেলের দৌরাত্ম্য।
ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে বা বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। ১৯৯৩ সাল থেকে ৩ মে দিনটি পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিকভাবে। দেশেও এবার পালিত হচ্ছে সভা-সেমিনারের মধ্য দিয়ে। তবে ২০১৬-তে দেশের মানুষের কাছে কতোটা-কিভাবে প্রভাব ফেলছে গণমাধ্যম?
এ নিয়ে এক গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, ৮২% মানুষ নির্ভরশীল টেলিভিশনের ওপর আর মাত্র ৫% মানুষ পত্রিকা পড়ে। তবে গণমাধ্যমের ১১% দখল করে নিয়েছে ইন্টারনেটে অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো। কেবল ১ % মানুষ নির্ভরশীল রেডিওর ওপর।
টেলিভিশনে সবচেয়ে দর্শকপ্রিয় বিষয় হচ্ছে সংবাদ, ২৫% দর্শক সংবাদ দেখেন আর ২০% দেখেন নাটক কিংবা টেলিফিল্ম-খেলা দেখে সময় কাটান ১৭% দর্শক আর টক'শোর দর্শকপ্রিয়তা ৬%।
তবে অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো যে ভবিষ্যতে কাগজে ছাপা পত্রিকার জায়গা দখল করে নেবে এ কথা জোর দিয়েই বলা হচ্ছে গবেষণা রিপোর্টে।
গণমাধ্যমপ্রিয়তার এ তুলনামুলক চিত্রের বাইরে গণমাধ্যমের তথ্যপ্রাপ্তি ও স্বাধীনতা ভোগে, সত্যের অনুসন্ধানে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানে-অপশক্তির প্রভাব মুক্ত হয়ে কাজ করার বিষয়ে কী ভাবেন সংশ্লিষ্টরা?
মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত আলোচনায় উঠে আসে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ-গণমাধ্যমের নানা প্রতিবন্ধকতা, আশঙ্কা আর সুপারিশের কথা।
আলোচনায় উপস্থিত সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, বিদেশি চ্যানেলের দৌরাত্ব বন্ধে বিজ্ঞাপনের ওপর কর ধার্য করার পরিকল্পনার কথা। গণমাধ্যমের ওপর সরকার কোনো চাপও প্রয়োগ করছে না।
তবে গণমাধ্যমের ওপর আন্তর্জাতিক মাফিয়া ও জঙ্গি চক্রের চাপ রয়েছে—উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এর প্রভাব থেকে গণমাধ্যমকে রক্ষায় সচেষ্ট সরকার। কোনো সিদ্ধান্তই গণমাধ্যম বিরোধী নয়-বরং চেষ্টা চলছে গণমাধ্যমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার।