প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যে ভরপুর এবং পর্যটন সম্ভাবনাময় জেলা দিনাজপুর। এ জেলায় পর্যটকদের বেড়ানোর জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক নিদর্শনের স্থান।
তবে, সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হতে চলেছে এসব স্থান। পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য নেই থাকা ও খাওয়ার সুব্যবস্থা। ফলে সম্ভাবনা থাকা সত্বেও কমছে পর্যটকদের সংখ্যা।
দিনাজপুর শহর থেকে ২২ কিলোমিটার উত্তরে কাহারোল উপজেলার কান্তনগর এলাকায় কান্তজিউ মন্দির অবস্থিত। ১৭২২ সালে দিনাজপুরের রাজা প্রাণনাথ এই মন্দির নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
আর ১৭৫২ সালে এই মন্দিরের কাজ শেষ করেন তার পোষ্যপুত্র রামনাথ। হিন্দু ধর্মগ্রন্থমতে বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি খচিত পোড়ামাটির টাইলস দিয়ে নির্মিত এই ধরনের মন্দির দিনাজপুরে আরেকটি নেই।
বিখ্যাত এই মন্দিরটি দেখার জন্য দেশ-বিদেশের শতশত দর্শনার্থী ও পর্যটক এখানে ভীড় জমান। শুধুমাত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনই নয় পোড়ামাটির ফলকে চিত্রায়িত সৃষ্টির বিষ্ময়তা দেখতে এখানে আসেন সব ধরনের লোকজন।
কান্তনগর মন্দিরের প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে নয়াবাদ গ্রামে ঐতিহাসিক আরেকটি নির্দশন রয়েছে। যার নাম নয়াবাদ মসজিদ। জনশ্রুতি আছে, ১৭০৪ সারে সুদুর পারস্য থেকে কান্তজিউ মন্দির নির্মানের জন্য দিনাজপুরের রাজা প্রাণনাথ ভিনদেশি মিস্ত্রিদের নিয়ে আসেন। এই মন্দির নির্মাণে সময় লেগেছিল ৫০ বছর। যেসব মিস্ত্রি পারস্য থেকে এসেছিল তারা ছিলেন মুসলমান। তাই মহারাজা কিছু সম্পত্তি দিয়ে তাদেরকে নয়াবাদ গ্রামে থাকতে দেন এবং তাদের নামাজ আদায় করার জন্য এই মসজিদ নির্মাণ করেন।
দিনাজপুর শহর হতে ৪ কিলোমটিরা উত্তর পূর্বে মনোরম এক গ্রাম্য পরিবেশে রয়েছে ঐতিহ্যের নিদর্শন ঐতিহাসিক রাজবাড়ী। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় তৎকালীন মহারাজা জগদীশনাথের আমলে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হলে তিনি স্বপরিবারে ভারতে চলে যান। এরপর থেকেই এই রাজপ্রাসাদের মধ্যে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হতে থাকে। বর্তমানে রাজপ্রাসাদটির বেহাল দশা।
ঐতিহাসিক এসব নির্দশনগুলো নিয়ে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের যে আকর্ষণ রয়েছে তা ধরে রাখতে পর্যটন সুবিধা বাড়ানোর দাবি পর্যটকদের।