চলে গেলেন প্রখ্যাত ইরানি চলচ্চিত্রকার আব্বাস কিয়ারোস্তমি। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।
প্যারিসে স্থানীয় সময় সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ইরানের হাউস অব সিনেমা তার মৃত্যুর খবরটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
গত মার্চে আব্বাসের শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ায় চিকিৎসার জন্য তিনি ফ্রান্সে অবস্থান করছিলেন। দ্য টেস্ট অব চেরি, ক্লোজআপ, সার্টিফায়েড কপির মতো অসাধারণ সব চলচ্চিত্র নির্মাণ করে চলচ্চিত্র জগতে গেড়েছেন স্থায়ী আসন। কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন স্বর্ণপামসহ বিশ্বের অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কারও।
হয়ার ইজ দ্য ফ্রেন্ড্রস হোম, লাইফ অ্যান্ড নাথিং মোর. এবং থ্রু দ্য অলিভ ট্রি---এ ট্রিলজি কখনো বাস্তব, কখনো কল্পনার পথ ধরে চলেছে, কখনো বিবরণ, কখনো তথ্য প্রকাশ--নির্মাণের এই বৈচিত্র তখনই বুঝিয়ে দিয়েছে চলচ্চিত্রকার আব্বাস কিয়ারোস্তামির কাজকে ইচ্ছে করলেই কোনো ছাঁচে ফেলা যাবে না। এ তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
আব্বাস কিয়ারোস্তমি---জন্ম ১৯৪০ সালে তেহরানে। পড়েছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায়। পাস করার পর একজন গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে কাজ শুরু করলেও তার আগ্রহের জায়গা তৈরি হয় চলচ্চিত্রকে ঘিরেই। ১৯৯৯ সালে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবের পর অনেক শিল্পী দেশ ছেড়ে চলে গেলেও কিয়ারোস্তমি ইরানেই থেকে গিয়েছিলেন। নতুন সরকারের আরোপিত বিধিনিষেধ মোকাবেলা করে এরমধ্যেই কৌশলে নিজের কাজ করে যাচ্ছিলেন। নির্মাণ করেছেন ৪০টিও বেশি চলচ্চিত্র।
তবে চলচ্চিত্র নিয়ে তার যুদ্ধে হেরে না গেলেও ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ে শেষতক হার মানলেন প্রখ্যাত এই ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা। বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। প্যারিসে সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। গত মার্চে শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ায় তিনি চিকিৎসার জন্য ফ্রান্সে অবস্থান করছিলেন।
কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ কিয়ারোস্তমি পেয়েছেন স্বর্ণপামসহ বিশ্বের আরও অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার। ১৯৯৭ সালে টেস্ট অব চেরি সিনেমাটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কার পাম দ'র জেতে। এ সিনেমার পর কিয়ারোস্তোমির চলচ্চিত্র ভাবনা বিচিত্র সব পথে হেঁটেছে। তিনি যা নির্মাণ করেছেন, তার সবকটি চলচ্চিত্রই পেয়েছে ভিন্নমাত্রা। এমনকি এ সময় এবিসি আফ্রিকা ও টেন অন টেন এর মতো যে তথ্যচিত্রগুলো তিনি নির্মাণ করেছেন, তাও অনন্য। সার্টিফায়েড কপি, শিরিন, লাইক সাম ওয়ান ইন লাভ সিনেমাগুলোতে আব্বাস সৃষ্টি করেছেন ভিন্ন মাত্রার গল্পের স্বাদ।
শুধূ তাই নয় পরিবর্তন এনেছেন চলচ্চিত্রের ভাষায়ও। দিয়েছেন মানবিকতার ছোঁয়া। চলচ্চিত্রে গেয়েছেন জীবনের জয়গান। তাই ক্যানসারের সঙ্গে হারলেও মৃত্যুর সঙ্গে তাকে ঠিক মেলানো যায় না। বিশ্ব চলচ্চিত্রে আব্বাস কিয়ারোস্তমি তার সৃষ্টির কারণেই বেঁচে থাকবেন।