ভারতের প্রখ্যাত লেখক, সমাজসেবী, রাজনৈতিককর্মী মহাশ্বেতা দেবী আর নেই। দীর্ঘ অসুস্থতার পর কলকাতার একটি হাসপাতালে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টায় জীবনাবসান হলো তার। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। ২২ মে থেকেই তিনি বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
গত ১৩ জুলাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে কলকাতার বেলভিউয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়।
গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বার্ধক্যজনিত সমস্যা, মূত্রনালীর সংক্রমণ (ইউরিনারি ইনফেকশন) ও সেপটিসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে ১৩ জুলাই থেকে চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছিলেন না বলে জানা যায়।
জানা গেছে, ১২ জুলাই গভীর রাতে মহাশ্বেতা দেবীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউ-তে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপরই মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। গত মে মাসে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।
মহাশ্বেতা দেবী ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সাঁওতাল ইত্যাদি উপজাতিদের ওপর কাজ এবং লেখার জন্য বিখ্যাত। তিনি জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পেয়েছেন।
তার লেখা শতাধিক বইয়ের মধ্যে ‘হাজার চুরাশির মা’ অন্যতম। বাবা মণীশ ঘটক ছিলেন নামি কবি ও লেখক। কল্লোল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। মা ধরিত্রী দেবীও একাধারে লেখিকা এবং সমাজসেবী ছিলেন।
মহাশ্বেতা দেবীর ছোট কাকা ছিলেন বিশিষ্ট চিত্র পরিচালক ঋত্বিক ঘটক। স্কুলের পড়াশোনা ঢাকা শহরে হলেও, দেশভাগের সময়ে পরিবারের সঙ্গে তিনি চলে আসেন পশ্চিমবঙ্গে।
শান্তিনিকেতন থেকে তিনি ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে বিএ পাস করেন। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শেষ করেন এমএ। বিখ্যাত নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্যের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। ১৯৪৮ সালে জন্ম হয় একমাত্র সন্তান নবারুণ ভট্টাচার্যের।
১৯৭৯ সালে তাকে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার দেয়া হয়। ১৯৮৬ সালে তাকে পদ্মশ্রীতে ভূষিত করা হয়। ২০১১ সালে তাঁকে পদ্মবিভূষণে সম্মানিত করা হয়। এরপর একে একে তিনি পেয়েছেন বহু স্বীকৃতি, পুরস্কার।
তার মধ্যে রয়েছে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার (১৯৯৬), ম্যাগসেসে পুরস্কার (১৯৯৭), বঙ্গবিভূষণ পুরস্কার (২০১১)। সাহিত্যে অবদানের জন্য তাকে ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে সার্ক সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হয়।