নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ৬৭তম জন্মদিন আজ (বৃহস্পতিবার)— বরেণ্য এ স্রষ্টা আধুনিক বাংলা নাটকে এক নতুন ধারার প্রবর্তন করেন। অনন্য সৃষ্টির জন্য তাঁকে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।
তার উদ্যোগেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে খোলা হয় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ। সেলিম আল দীনের আদর্শকেই ধারণ করেন এ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
হোমার, ফেরদৌসী, গ্যাটে আর রবীন্দ্রনাথের মত কবিদের কাছ থেকে প্রেরণা নিয়ে তৈরি যার শিল্প সত্তা, তিনি সেলিম আল দীন। ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজীর সেনেরখিলে তার জন্ম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে অধ্যায়ন করেন তিনি।
১৯৭৪ সালে যোগ দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে- বাংলার প্রভাষক পদে। ১৯৮৬ সালে তাঁর উদ্যোগেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ।
নাট্যচর্চার ধারা ছড়িয়ে দিতে সেলিম আল দীন দেশজুড়ে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার। জড়িত ছিলেন ঢাকা থিয়েটারের জন্মলগ্ন থেকে। প্রচলিত নাট্যরীতি অনুসরণ না করে বাংলার মধ্যযুগীয় নাট্যরীতির ভাবধারায় তিনি গড়ে তোলেন নিজস্ব এক নাট্যরীতি।
ভাষাগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবনাচরণ কেন্দ্রিক এথনিক থিয়েটারের প্রবক্তাও খ্যাতিমান এ শিল্পী। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, বাসন, মুনতাসির, শকুন্তলা, কীর্তণখোলা, কেরামতমঙ্গল, যৈবতী কণ্যার মন, ও চাকা।
১৯৮৪ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ‘৯৬ সালে জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার এবং ২০০৭ সালে একুশে পদকে ভূষিত করা হয় তাকে। ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারী প্রয়াত হন এই কৃতী পুরুষ। তাঁকে সমাহিত করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে।
তার আদর্শ ধারণ করেই পথ চলতে চান বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্বের শিক্ষার্থীরা। সেলিম আল দীনের কর্মময় জীবনকে শ্রদ্ধা জানাতে এবারো তার জন্মজয়ন্তীতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।