শুরু হলো বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম অনুষঙ্গ এ পূজা।
আজ-বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেবী বোধনের মধ্যদিয়ে শুরু হলো পূজার আনুষ্ঠানিকতা। বাঙালির সমাজ-সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের চিরচেনা রূপটি দেবী দুর্গার মধ্যে ফুটে ওঠে। অসুর বধের জন্যই দেবির আগমন মর্ত্যে। পৃথিবীর শান্তি সমৃদ্ধি আর কল্যাণে ভক্তরা মেতে ওঠেন দশভুজা দুর্গার আরাধনায়। এবার রাজধানীতে মোট পূজা হচ্ছে ২২৮টি। আর সারাদেশে ২৯ হাজার ৩৯৫টি পূজা হচ্ছে যা গতবারের চেয়ে ৩২১টি বেশি।
হিন্দু ধর্মশাস্ত্র মার্কণ্ডেয় পুরাণের অংশ চণ্ডী— আর এ চণ্ডীতেই বর্ণিত হয়েছে দেবী দুর্গার মহিশাসুর বধ কাহিনী। দেবকুলে মাঘ থেকে আষাঢ়- এ ছয় মাস দিন যাকে বলে উত্তরায়ন, আর শ্রাবণ থেকে পৌষ এসময় রাত যা দক্ষিণায়ন। লংকার রাজা রাবণকে বধের জন্য রামচন্দ্র দক্ষিণায়ন সময়কাল, আশ্বিন মাসে দেবি দুর্গার আবাহন করেন। অকালে বোধন, তাই শারদীয় দুর্গাপূজা।
বোধন থেকে বিসর্জন ভক্তরা মেতে উঠেন দেবি দুর্গার আরাধনায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, বাঙালি সমাজের চিরচেনা শ্বাশত রূপটি দেখা যায় দেবি দুর্গার মধ্যে।
মন্দিরে মন্দিরে এরই মধ্যে পূজার সকল প্রস্তুতি শেষপর্যায়ে। প্যান্ডেল, মণ্ডপ আর আলোকসজ্জার কাজও প্রায় শেষ। কোথাও প্রতিমা প্রস্তুত হয়ে গেছে কোথাও বা টান চলছে তুলির শেষ আঁচড়ে বলে জানান বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল।
মূলতঃ ষষ্ঠিতে দেবি বোধনের মধ্য দিয়েই শুরু হয় দুর্গা পূজার আনুষ্ঠানিকতা। কিন্তু এবার তিথি অনুযায়ী পঞ্চমীতে হবে দেবী বোধন। এর মধ্য দিয়েই দেবী দুর্গাকে আবাহন করা হবে মর্ত্যলোকে। শুক্রবার সকালে হবে দেবীর ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ। শনিবার সপ্তমীতে নবপত্রিকা প্রবেশ, মূল পূজা শুরু হবে মণ্ডপে। রোববার অষ্টমী, এদিন রামকৃষ্ণ মিশনে হবে কুমারী পূজা। সোমবার নবমীতে আরতি আর মঙ্গলবার দশমীতে দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব।
এদিকে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলছে ব্যপক প্রস্তুতি। নারায়ণগঞ্জ, নড়াইল, নেত্রকোনা ও পিরোজপুরে শেষ মুহূর্তে চলছে প্রতিমার সাজসজ্জার পাশপাশি রং আর আলোক সজ্জায় মণ্ডপের শোভা বর্ধনের কাজও। পূজা উপলক্ষে মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আগামীকাল- শুক্রবার দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল পূজা। চলছে শেষ মূহূর্তের প্রস্তুতি। এবছর নারায়ণগঞ্জে ১৯৬টি, নড়াইলে ৫৭৫টি, নেত্রকোনায় ৪৪৩টি ও পিরোজপুরে ৪৩৫টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
সময়মতো কাজ শেষ করতে দিন-রাত ব্যস্ত প্রতিমা কারিগররা।
সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে সব ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে- জানিয়েছেন নেত্রকোণার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুনীল বিশ্বাস
পূজায় নিরাপত্তা দিতে পুলিশের পক্ষ থেকেও বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আগামী ১১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব।