শুরু হয়েছে মহাসপ্তমী আজ- শনিবার। বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা— মহাসপ্তমীর মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে মূল পূজা। সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদানের মাধ্যমে শুরু হয় আজকের দিনের কার্যক্রম।
এরপর পঞ্জিকা অনুসারে সকাল ৮টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ ও সপ্তমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এভাবে উৎসব চলবে আগামী-মঙ্গলবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত।
পুরাণ মতে, ত্রেতা যুগে লঙ্কার রাজা রাবণকে বধের জন্য রামচন্দ্র সপ্তমীর এ ক্ষণে দেবী দুর্গার পূজা করেছিলেন। ষষ্ঠীতে মণ্ডপে অধিষ্ঠানের পর সপ্তমী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুর্গাপূজার মূল অনুষ্ঠান। ভক্তের আরাধনা, ঢাক, শঙ্খ, উলুধ্বনিতে মুখর সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলো।
সপ্তমীর সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের ভিড়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ-কাসর ধ্বনি আর মন্ত্র ও শাস্ত্রপাঠের পাশাপাশি দর্শণার্থীদের কোলাহলে মুখরিত এখন রাজধানীসহ সারাদেশের প্রতিটি পূজা মণ্ডপ।
সপ্তমীতে বিভিন্ন মঙ্গল উপাচারের মাধ্যমে দেবীকে অনুরোধ জানানো হয় ভক্তদের পূজা গ্রহণের। বেলতলা থেকে মূল মন্দিরে প্রবেশের পর সপ্তমীর প্রথম প্রহরে নবপত্রিকা স্থাপন এবং কলাবউকে স্নান করানোর পর ষোলটি উপাদান দিয়ে শুরু হয় মূল পূজা।
সারাদেশের মতো রাজশাহী বিভাগেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। এবার ৪২০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে।
বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব চলছে রাজবাড়িতেও। দেবীর আরাধনা করে সন্তুষ্টি লাভের জন্য ফুল বেলপাতা দিয়ে দেবীর পায়ে অর্ঘ্য দেয়া হয়।
নাটোরে সকালে মন্দিরগুলোতে ভক্তবৃন্দ ভীড় করতে থাকেন ভক্তরা। শঙ্খ ধ্বনী আর ঢাকের শব্দে মুখরিত হয়ে উঠে পূজা মণ্ডপগুলো।
এছাড়া খুলনা, নওগা, নড়াইল, পাবনা, ময়মনসিংহ ও ধামড়াইসহ সারাদেশের মণ্ডপগুলোতে আজ সপ্তমী পূজার মাধ্য দিয়ে দুর্গা পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা চলছে।
গতকাল মহাষষ্ঠীতে নানা আচার-অর্চনায় দেবীর আনুষ্ঠানিক অধিষ্ঠান হয় মণ্ডপে মণ্ডপে। এদিন পঞ্জিকামতে, দেবী দুর্গা এবার আসছেন ঘোড়ায় চড়ে, ফিরে যাবেনও ঘোড়ায়।
ঢাকে কাঠি পড়লো, শঙ্খ ধ্বনিতে মুখরিত হলো চারিদিক। আমন্ত্রণ আর অধিবাসের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে ষষ্ঠী পূজা। এবার সারাদেশে ২৯ হাজার ৩৯৫টি পূজামণ্ডপে হচ্ছে দুর্গাপূজা যা গতবারের চেয়ে ৩২১ বেশি।
পূজা উপলক্ষে আনন্দ, উৎসবের আমেজ তাদের মধ্যে। পূজা শেষে পবিত্র হওয়ার বাসনায় ধূপের ধোয়া আর পূষ্পাঞ্জলী দিয়ে দেবীর প্রতি ভক্তি প্রকাশ করেছেন ভক্তরা।
শরৎকালে শত্রু বধ করেছিলেন বলে দেবী দুর্গার আরেক নাম শারদেশত্রুনাশিনী— লোকালয়ে দেবীর আগমণ তাই পৃথিবী থেকে সকল অশুভ শক্তি দূর করবে জানান পুরোহিত রণজিৎ চক্রবর্তী শনিবার মহাসপ্তমীতে মণ্ডপে শুরু হয়েছে মূলপূজা।
এদিকে, ষষ্ঠীর সকাল থেকেই সারাদেশের মণ্ডপগুলোতে শুরু হয় দুর্গা পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। ধুপ-ধুনার গন্ধে, ভক্তদের আগমণ ও ঢাকের বাজনায় প্রতিটি মণ্ডপ মুখরিত হয়ে উঠেছে। সপ্তমী, অষ্টমী, সন্ধি, নবমী ও দশমী পূজায় ভক্তদের সর্বজনীন মঙ্গল কামনার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
সকালে ষষ্ঠীর বোধনের মধ্য দিয়েই মণ্ডপে অধিষ্ঠিত হন দেবী দুর্গা।
এদিকে, নোয়াখালীতে ওইদিন দুপুরে উদ্বোধন করা হয় ৭১ ফুট উঁচু দুর্গা প্রতিমা। মা দুর্গাকে বরণ করে নেয়ার জন্য সকাল থেকেই বিভিন্নভাবে আরাধনার মাধ্যমে প্রস্তুতি নেন পূজারীরা। প্রতিমা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩৫ লাখ টাকা ।
এদিকে, যশোর, খুলনা, গোপালগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নড়াইল, মাদারীপুর ও দিনাজপুরসহ সারাদেশের মণ্ডপগুলোতেও আজ মহা ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শুরু হয়েছে দুর্গা পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা।