দেশবরেণ্য লেখক, জননন্দিত ঔপন্যাসিক, চলচ্চিত্র ও নাট্যনির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ৬৮তম জন্মদিন আজ রোববার। ৬৪ বছরের জীবনের ৪০ বছরই তিনি বিচরণ করেছেন সাহিত্যের বিচিত্র জগতে। লেখালেখির প্রায় পুরো সময়টাতেই ছিলেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। হুমায়ূন আহমেদ যেখানেই হাত দিয়েছেন সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেছেন। ছোট গল্প, টিভি নাটক বা চলচ্চিত্রে- সর্বত্রই তিনি সমানভাবে সফল। জনপ্রিয় এ লেখকের জন্মদিন পালিত হচ্ছে নানা আয়োজনে।
এদেশের জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম হুমায়ূন আহমেদ। ঔপন্যাসিক, ছোট গল্পকার, নাট্যকার, চলচ্চিত্রকার বহুমাত্রিক সৃজনশীল এই মানুষটির জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কুতুবপুর গ্রামে। আজ তার ৬৬তম জন্মদিন।
হুমায়ূন আহমেদের লেখালেখির শুরু সত্তরের দশকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়। প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে' দিয়ে সাহিত্যের জগতে তার আত্মপ্রকাশ। আর প্রথম লেখাতেই জয় করে নেন পাঠকের মন। এরপর আর থেমে থাকেননি লিখে গেছেন আমৃত্যু। লিখেছেন দুশ'রও বেশি উপন্যাস আর গল্প। শঙ্খনীল কারাগার, এইসব দিনরাত্রি, সৌরভ, অপেক্ষা, কবি- তার প্রাঞ্জল, সরল অথচ বুদ্ধিদীপ্ত কথকতা আর অনুভূতি ছুঁয়ে যাওয়া বর্ণনা পাঠককে করেছে মন্ত্রমুগ্ধ। মিসির আলী আর হিমুর মতো চরিত্র সৃষ্টি করে লজিক আর এন্টিলজিকের দোলাচলে মাতিয়েছেন সব প্রজন্মের পাঠকদের।
এইসব দিনরাত্রির মধ্য দিয়ে নাট্যকার হিসেবে তার যাত্রা শুরু। হুমায়ূন একাই ভেঙেচুরে বদলে দিয়েছেন এদেশের টিভি নাটকের গতানুগতিক ধারা। ৯০ এর দশকে চলচ্চিত্র জগতে তার প্রবেশ। সেখানেও খ্যাতি পেয়েছেন প্রবাদপ্রতীম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপনা পেশা ছেড়ে পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করেন লেখালেখির মতো সৃজনশীল কাজে।
বরেণ্য এ কথা সাহিত্যিকের লেখায় বারবার ফিরে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ। হুমায়ুন স্বাধীনতা পরবর্তী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন 'আগুনের পরশমনি' চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে। জিতে নেন একুশে পদকসহ আটটি শাখায় জাতীয় পুরস্কার। তারপর একে একে নির্মাণ করেন ১৩টি চলচ্চিত্র।
দীর্ঘ ১০ মাস ক্যানসারে ভুগে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই সকলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান এই নন্দিত কথাসাহিত্যিক। তবে ভক্ত-অনুরাগী আর বাংলা সাহিত্যের পাঠকের হৃদয়ে হুমায়ূন বেঁচে থাকবেন চিরকাল।
এদিকে, নানা আয়োজনে হুমায়ূন ভক্ত-পাঠকরা পালন করছে কিংবদন্তী এ কথাসাহিত্যিকের জন্মবার্ষিকী। নুহাশ পল্লীতে আনুষ্ঠানিকভাবে দিনটি পালন করছে হুমায়ূন পরিবারের সদস্য ও ভক্তরা। শনিবার রাত বারোটা এক মিনিটে নুহাশ পল্লীতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতা। সকালে তাঁর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান পরিবারের সদস্য, ভক্ত ও নুহাশ পল্লীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেন তারা।
এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জাগায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে হুমায়ূন আহমেদের ৬৮তম জন্মবার্ষিকী।