ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনেই শুরু হচ্ছে বাঙালির প্রাণের মেলা ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’। এবারও বইমেলার পরিসর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে।
প্রতিবারের মতো মাসব্যাপী একুশে বইমেলার পাশাপাশি বাংলা একাডেমি আয়োজন করছে "সম্প্রীতির জন্য সাহিত্য" শীর্ষক ৪ দিনের আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন।
মেলা প্রাঙ্গণে স্টল তৈরির কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে। কাল-বুধবার বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করবেন।
ফাল্গুনের ঝরা পাতার সঙ্গে এ এক অনন্যাযোগ বইয়ের পাতায়। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি তাই বইয়ের মাসও। ভাষা-সাহিত্যের প্রাণ যে বই, তার সঙ্গে জনসংযোগই বইয়ের মেলা। এ মেলাই বাঙালির প্রাণের মেলা, যার সঙ্গে মিশে আছে একুশের চেতনা। নাম তাই অমর একুশে গ্রন্থমেলা।
বইমেলার বিস্তৃতি এবারও বাংলা একাডেমি ছাপিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আরো বিস্তৃত পরিসরে। তবে মেলাকে সাজিয়ে তোলার কাজে এখনো ছেদ পড়েনি। দিনরাত চলছে স্টলসজ্জার কাজ।
এ বছরই বইমেলা পাচ্ছে ভিন্ন বৈশিষ্ট্য সেটা সূচনাতেই। বইকেন্দ্রিক এই মিলনমেলার উদ্বোধনী দিন থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকছে "সম্প্রীতির জন্য সাহিত্য" শীর্ষক আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন।
সম্মেলনে যোগ দেবেন জামার্নি, অস্ট্রিয়া, চীন, রাশিয়া, পুয়ের্তোরিকো, সুইডেন, ভারত-এই ৭ দেশের ২৭ জন বিশিষ্ট কবি, কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও লেখকেরা।
দেশের মানুষ জানবেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে দেশের বাইরে গবেষণা ও চর্চার কথা বলে জানান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।
আর বইমেলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ভাগ হচ্ছে ১২টি চত্বরে। সেখানে ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে ৫৪৯টি ইউনিট। আর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮০টি প্রতিষ্ঠানের জন্য রয়েছে ১১৪টি ইউনিট। ১৫টি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে প্যাভিলিয়ন।
বই মেলার সার্বিক প্রস্তুতিতে প্রকাশকরা সন্তুষ্ট। তাদের প্রত্যাশা, এবারের আয়োজন অতীতের সকল মেলাকে ছাড়িয়ে যাবে অন্য প্রকাশের কর্ণধার মাজহারুল ইসলাম।
বইমেলার জন্য নিরাপত্তার আয়োজনও ব্যাপক। দোয়েল চত্বর থেকে শাহবাগ পর্যন্ত যেমন থাকবে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার আওতায়, মেলাপ্রাঙ্গণেও তার কমতি থাকবে না। বসানো হয়েছে পাঁচটি ওয়াচ টাওয়ার। জরুরি পাহারা দিতে থাকছে বিশেষ নিরাপত্তাকর্মীর দল।
আর লেখক-প্রকাশক, পাঠক, ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সুবিধা দিতে উদ্যানের ভেতরের রাস্তা হয়েছে ২৫ ফুট প্রশস্ত, একাডেমি আর উদ্যানে তিনটি করে প্রবেশ ও বাহির পথ থাকবে। একাডেমি ও উদ্যানের মেলা প্রাঙ্গণ যেন বিচ্ছিন্ন
মনে না হয় সেজন্য থাকবে বিশেষ সংযোগ পথ। উদ্যানে থাকছে খাবারের স্টলও।