সঙ্গীত অনুরাগীসহ নানা-শ্রেণী-পেশার মানুষের শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত হলেন সঙ্গীতজ্ঞ করুণাময় গ্বোস্বামী। একুশে পদকপ্রাপ্ত এ গুণীর মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সকালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে আনা হয়। বিভিন্ন সংগঠন ও নানা শ্রেণিপেশার মানুষরা করুণাময় গোস্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নিজ জেলা নারায়ণগঞ্জে নেওয়া হয়। স্থানীয় তোলারাম কলেজসহ কয়েকটি স্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গাবতলি শ্মশানে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবার কথা।
১৯৪২ সালের ১১ মার্চ ময়মনসিংহের গোসাই চান্দুরা গ্রামে জন্ম রবীন্দ্র-নজরুল গবেষক ও সংগীতজ্ঞ অধ্যাপক ড. করুণাময় গোস্বামির। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে এমএ পাস করে ১৯৬৪ সালে যোগ দেন নারায়ণগঞ্জের তোলারাম কলেজে। ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক হলেও গবেষণা ও সাহিত্যসৃজনে তার কর্মপরিধি ছিল বহুধা-বিস্তৃত।
তার উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে- রবীন্দ্রসংগীত পরিক্রমা, নজরুল সংগীত প্রসঙ্গ, বাংলা গানের বিবর্তন, বাংলা গানের কথা ও দ্য আর্ট অফ টেগোরস সং, সঙ্গীত কোষ ইত্যাদি। তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন।
গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর ডিওএইচএসে নিজ বাড়িতে জ্বরাক্রান্ত অবস্থায় পড়ে গিয়ে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু হয় তার। ছেলে ও মেয়ে বিদেশ থেকে ফেরার জন্য তার মরদেহ শমরিতার হিমঘরে রাখা হয়।
সোমবার সকালে প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে নেয়া হয়। এ সময় একে একে তাকে শ্রদ্ধা জানান বাংলা একাডেমির সভাপতি ড. আনিসুজ্জামান, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জাম নূরসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
তাকে স্মরণ করে ড. আনিসুজ্জামান বলেন, সাহিত্য সম্পর্কে করুণাময় গোস্বামীর যে জ্ঞান, তা অসামান্য। বলেন সাহিত্যের ইতিহাস ও সৌন্দর্য বিশ্লেষণে তিনি যে ভূমিকা রেখেছেন তা তুলনাহীন।
পরে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানায় গুণী এই সংগীতজ্ঞের প্রতি।