কিংবদন্তী চলচ্চিত্র অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের প্রতি এফডিসিতে শ্রদ্ধা জানান শিল্পী ও কলাকুশলীরা।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে তাঁর মরদেহ নেয়া হয় দীর্ঘদিনের কর্মস্থল এফডিসিতে। প্রথম নামাজে জানাজা শেষে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে। সকলের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানানো শেষে মরদেহ নেয়ার কথা ছিল গুলশানের আজাদ মসজিদে।
পরে বাদ আসর দ্বিতীয় জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করার কথা হয় তবে নায়করাজের মেজ ছেলে বিদেশ থেকে এখনো না ফেরায় দাফন পেছানো হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত মারা যান রাজ্জাক। এর আগে বিকেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরেই নিউমোনিয়াসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন নায়করাজ।
নায়করাজ রাজ্জাক নিয়ে কিছু কথা :
দেশের চলচ্চিত্র শিল্প যাদের হাত ধরে দাঁড়িয়েছে, তাদেরই একজন নায়করাজ রাজ্জাক। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বেশ দাপটের সঙ্গেই সেরা নায়ক হয়ে অভিনয় করেছেন। পেয়েছেন নায়করাজের খেতাব। একাধিক সম্মাননার পাশাপাশি অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
তার অভিনিত সিনেমার সংখ্যা ৩০০টিরও বেশি। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কিছু উর্দু সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন। পরিচালনা করেছেন প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র।
সাদাকালো যুগ থেকে শুরু করে রঙ্গিন যুগেও অভিনয় করে গেছেন দাপটের সঙ্গে। জীবন থেকে নেয়া, নীল আকাশের নীচে, পিচ ঢালা পথ, স্বরলিপি, ময়নামতি, আলোর মিছিল, অনন্ত প্রেম, অশিক্ষিত- বাংলা চলচ্চিত্রের একেকটি ইতিহাস।
গুনী এ অভিনয় শিল্পীর জন্ম ১৯৪২ সালে ২৩ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার টালিগঞ্জে। কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় স্বরস্বতী পূজায় প্রথম একটি নাটক মঞ্চস্থ করেন। স্কুলের এক শিক্ষক কিশোর রাজ্জাককে মঞ্চে অভিনয়ের জন্য উৎসাহিত করেন।
পরে রাজ্জাক ওই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর স্কুল জীবনেই 'বিদ্রোহ' নাটকে অভিনয় করেন। কলেজ জীবনে 'রতন লাল বাঙালি' সিনেমায় তার প্রথম অভিনয়।
১৯৬৪ সালে সপরিবারে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাড়ি জমান রাজ্জাক। প্রথমদিকে রাজ্জাক তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে ঘরোয়া নামের ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি আব্দুল জব্বার খানের সঙ্গে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান।
শুরু করেন চলচ্চিত্রে অভিনয়। এরপর আর তাকে ফিরে তাকাতে হয়নি। স্বাধীনতার পর 'রংবাজ' দিয়ে দেশে অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্রের সূচনা ঘটান।
চলচ্চিত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি হয়ে ওঠে রাজ্জাক- কবরী জুটি। পেয়েছেন নায়করাজের খেতাব। পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও একাধিক সম্মাননাও পেয়েছেন তিনি।
শেষ দিকে গিয়ে অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমা পরিচালনা আর প্রযোজনাও করেছেন। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করেছেন নারী নির্যাতন ও বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে।