প্রেম, দ্রোহ, সাম্য আর মানবতার কবি নজরুল। বাঙালি জাতি দ্রোহ আর প্রেমের ভাষা খুঁজে পেয়েছে এ বিদ্রোহী কবির কাছে। জাতির সকল ক্রান্তিলগ্নে কবির গান ও কবিতা সবসময় প্রেরণা জুগিয়েছে মুক্তিকামী মানুষকে। আজও সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ রুখতে এবং মানবমুক্তির পথ অন্বেষণে পথ প্রদর্শক জাতীয় কবি নজরুল। তাই তার প্রয়াণ দিবসে আজ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, কুপমণ্ডুকতা, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সোচ্চার নজরুলকে।
আমায় নহে গো ভালবাস মোর গান—কি গান কি কবিতা সবকিছুতেই সাম্যবাদী মননকে সবার ওপরে ঠাঁই দিয়েছেন কবি নজরুল। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে অগ্নিঝরা বজ্রকণ্ঠ যে কবি; লেখায়, জীবন-কর্মে যার বিদ্রোহের সুর। মানুষে মানুষে বিভেদ দূর করা আর সংকীর্ণতার দেয়াল ভাঙ্গার লড়াইও করেছেন সমানতালে।
আমৃত্যু গেয়েছেন মানবতার জয়গান; ধর্মান্ধদের নানা ফতোয়ার মুখেও দমেননি নজরুল; সবার ওপর মানুষ সত্য এই মর্মবাণী কবি কণ্ঠে ভাস্বর হয়েছে বারবার। মানবতাবাদী এই কবি সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, কুপমণ্ডুকতা, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বরাবর ছিলেন সোচ্চার।
নজরুল গবেষক সৌমিত্র শেখর ও নাসিমা শাহীনের মতে, শত বছর পর এসেও বর্তমান বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রপন্থার উত্থানের এ সময়টায় অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক নজরুল।
কবি মারা গেছেন চার দশক আগে; চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন এ বাংলার মাটিতেই। কবি নেই, কিন্তু রয়ে গেছে তার সৃষ্টিকর্ম। সর্বস্তরে নজরুল চর্চাই দেশের মানুষকে মুক্তি দিতে পারে সাম্প্রদায়িকতা আর ধর্মান্ধতার অন্ধকার থেকে আর সেটাই হতে পারে কবির প্রতি সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধার্ঘ্য।