শুভ নববর্ষ ! স্বাগত ১৪২৫ বঙ্গাব্দ— বাঙালির সবচেয়ে বড় পার্বন- নববর্ষকে বরণ করে নিতে দেশজুড়ে চলছে নানা উৎসব আয়োজন। পুরনো জরা-জীর্ণতা মুছে দিয়ে নতুনের আবাহনে ভোরে সূর্যোদয়ের আভায় রাজধানীতে রমনার বটমূলে শুরু হয় ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী প্রভাতী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।
এবারের প্রতিপাদ্য- বিশ্বায়নের বাস্তবতায় শিকড়ের সন্ধান। ডাক দেওয়া হয়- হিংসা, হানাহানি আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে নতুন সংগ্রামের। যে সংগ্রামের হাতিয়ার হবে সংস্কৃতি। গানে গানে ছিল সেই চেতনা জাগানিয়া আহ্বান।
ভোরের হাওয়ায়, গাছের পাতায় যেন সুরের দোলা। গাছের পাতার ফাঁক গলে বৈশাখের প্রথম সূর্যের আলো এসে পড়লো উপস্থিত দর্শকদের ওপর। ছায়ানটের শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে গেয়ে ওঠেন গান।
লোকে লোকারণ্য রমনা বটমূল। সবকটি পথ দিয়ে, সব দিক দিয়ে উৎসবে শামিল মানুষ। মূল প্রাঙ্গণে ঠাঁই নেই- আর তাই সরোবর ঘিরে বসে, দাঁড়িয়ে শুভ দিনের প্রত্যাশায়।
সঙ্গীত কবিতা পাঠের মধ্যে মানবতা, সম্প্রীতি ও শান্তির বাংলাদেশ গড়ার শপথ নেন সকলে। নববর্ষে শিশুদেরও যেন আনন্দ বাধ মানে না।
বর্ণিল এই বাংলা নববর্ষের আনন্দে শামিল হয়েছেন ভিনদেশীরাও। সমাজে সাম্প্রদায়িক অন্ধকারের নতুন সঞ্চার রুখতে ১৪২৫'র প্রথম প্রভাতে বিশ্বমানব হবার আগে শাশ্বত বাঙালি হবার প্রত্যয়ে বিশ্বায়নের বাস্তবতায় শিকড়ের সন্ধানের আহ্বান।
নতুন বছরে মানুষে মানুষে মিলিত হবার এই যে আকাঙ্ক্ষা- তা সঞ্চারিত হবে সকল সময়ে- এমন প্রত্যাশা সবার।
জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ছায়ানটের বৈশাখের প্রভাতী অনুষ্ঠান।