বিশ্ব বরণ্যে চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৩৪তম জন্মবার্ষিকী আজ (শুক্রবার)। কীর্তিমান এ শিল্পী রং তুলির আঁচড়ে তুলে এনেছেন দেশ- মাটি ও মেহনতি মানুষের জীবন। বাংলার চিত্রকলাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিশ্ব দরবারে।
দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সুলতানের জন্মবার্ষিকী পালন করেছে জেলা প্রশাসন ও সুলতান ফাউন্ডেশন।
এসএম সুলতান— যার রং তুলি আর ক্যানভাসের উপজীব্য মাটি আর মানুষ। এঁকেছেন জল-জেলে-নৌকা, পাট কাটা, ধান ভানা, চর দখল ও মাছ ধরার মতো গ্রাম বাংলার অসংখ্য ছবি। তিনিই একমাত্র বাঙালি চিত্রকর যার আঁকা ছবি, পাবলো পিকাসো, ডুফি, সালভেদর দালির ছবির সঙ্গে লন্ডনে প্রদর্শিত হয়।
হতদরিদ্র পরিবারে ১৯২৪ সালের এ দিনে জন্ম এসএম সুলতানের। ব্যক্তি জীবনে ছিলেন ভবঘুরে আনমোনা প্রকৃতির। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় বেশি এগোতে পারেননি।
তবে আঁকাআঁকির ঝোঁক সেই ছোট বেলাতেই। জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন, ছবি আঁকাতেই। পেয়েছেন, একুশে ও স্বাধীনতা পদক। ভূষিত হয়েছেন দেশি-বিদেশি সম্মাননায়।
১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর তার মৃত্যুর পর নড়াইলবাসীর দাবিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ২০০৩ সালে নড়াইল শহরের মাছিমদিয়া এলাকায় সুলতানের বসতবাড়ির কাছে ২ একর ৫৭ শতক জমিতে শিশুস্বর্গের আদলে এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা নির্মাণ করা হয়।
সংগ্রহশালায় সুলতানের নিজ হাতে আঁকা ছবি দেখতে পেরে খুশী সুলতান প্রেমীরা। প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে সুলতান সংগ্রহশালা'র বিভিন্ন উন্নয়নে।
শিল্পীর জন্মবার্ষিকী পালনে জেলা প্রশাসন ও সুলতান ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভাসহ দিন ব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।