বর্ষীয়ান শিক্ষাবিদ ও ভাষাসৈনিক সৈয়দ আব্দুল হান্নান মারা গেছেন। মঙ্গলবার ভোরে রাজধানী ঢাকার সিটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ বিকাল সাড়ে ৪টায় শেরপুর পৌর ঈদগাহ মাঠে নামাজে জানাযা শেষে শহরের মধ্যশেরি এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ সমাহিত করা হবে।
সৈয়দ আব্দুল হান্নানকে নিয়ে কিছু কথা :
ভাষাসৈনিক শিক্ষাবিদ হিসেবে সৈয়দ আব্দুল হান্নান শেরপুরের পরিচিত মুখ। ১৯৩২ সালে ২৫ ডিসেম্বর শেরপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা সৈয়দ আব্দুল হালিম ও মা রাবেয়া খাতুন। তিন মেয়ে ও দুই ছেলের জনক তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৫৬ সালে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে এমএ এবং ১৯৬৪ সালে আইন বিষয়ে এলএলবি পাস করেন।
১৯৬৪ সালের ১৬ জুলাই তিনি শেরপুর কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৯৯ সালের ৩০ জানুয়ারি ওই কলেজ থেকেই অবসর নেন।
১৯৫২ সালে বগুড়ার আজিজুল হক কলেজে পড়ার সময় তিনি একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। সে সময় শেরপুরে সকল কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে যে কয়েকজন তরুণ ছিলেন তাদের অন্যতম তিনি।
ভাষা আন্দোলন ছাড়াও তিনি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের দেশীয় দোসরদের হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। ২০০৫ সালে ভাষা-সংগ্রামী হিসেবে তিনি রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত হন।