প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ-পিআইবির মহাপরিচালক ও সিনিয়র সাংবাদিক শাহ আলমগীর আর নেই।
বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টায় ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কর্মস্থল পিআইবি ও জাতীয় প্রেসক্লাবে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান রাজনীতিক, তার সহকর্মী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ কর্মীরা।
দেশের সাংবাদিকতা জগতের উজ্জ্বল এক ব্যক্তিত্ব মো. শাহ আলমগীর।
পিআইবির প্রধানের দায়িত্ব ছাড়াও শাহ আলমগীর বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।
দীর্ঘ ৩৫ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি একাধিক ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। চ্যানেল আই এর প্রধান বার্তা সম্পাদক, একুশে টেলিভিশনে হেড অব নিউজ, যমুনা টেলিভিশনে পরিচালক-বার্তা এবং মাছরাঙা টেলিভিশনে বার্তা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন।
এশিয়ান টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দৈনিক জনতা, বাংলার বাণী, আজাদ ও সংবাদে কাজ করেছেন। প্রথম আলোর প্রকাশের শুরু থেকেই জড়িত ছিলেন তিনি।
বেশ কিছুদিন ধরে রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বল্পতা ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন শাহ আলমগীর। ২১ ফেব্রুয়ারি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা সিএমইচএ ভর্তি করা হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারিরীক পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে মঙ্গলবার রাতে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এ বিশিষ্ট সাংবাদিক।
শাহ আলমগীরের মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে দেশের মিডিয়া জগতে। তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় প্রেসক্লাবে ছুটে আসেন সাংবাদিক, সংবাদকর্মীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতারাও।
সাংবাদিকতায় শাহ আলমগীরের অবদান তুলে ধরেন সাংবাদিক নেতারা। সহকর্মী হিসেবেও ছিলেন আন্তরিক।
জাতীয় প্রেসক্লাবে নামাজে জানাজা শেষে সর্বশেষ কর্মস্থল পিআইবিতে নেয়া হয় শাহ আলমগীরের মরদেহ। চোখের জলে তাকে বিদায় জানান সহকর্মীরা।