বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে লকডাউন করেছে অনেক দেশ।
এই সময়ে কয়েকটি জরুরি সেবা ছাড়া প্রায় সবই ব্যহত হয়েছে। ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন বিশ্বের বিনোদনজগতের তারকারা। সঙ্গীতশিল্পীরাও এই সময়ে ঘরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
তবে অন্য সবার চেয়ে কিছুটা হলেও আলাদা হিসেবে দেখা গেছে দেশি-বিদেশী সঙ্গীতশিল্পীদের। তারা ঘরবন্দি হয়েছেন ঠিকই, তবে একেবারে থেমে যাননি।
মহামারি শুরুর পর যখন মানুষ ঘরবন্দি হতে শুরু করে তখন প্রায়ই অনেকেই বিভিন্ন উপায়ে সঙ্গীত চর্চা করে গেছেন। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমগুলো, ইউটিউব হয়ে উঠেছে এর প্রধান ক্ষেত্র।
বাংলাদেশে গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ উদযাপন হয়েছে। তার ঠিক আগের দিন সঙ্গীতশিল্পীরা ঘরে বসেই নববর্ষ বরণের গান করেছেন অনলাইনে। গানটি অল্প সময়েই খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। যেখানে দেশের জনপ্রিয় সব সঙ্গীতশিল্পী নিজেদের বাসা থেকেই গানে অংশ নেন।
বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশে লকডাউনে থেকেই গান গেয়ে মাত করে দিচ্ছেন তারকা শিল্পীরা।
ক্রিস মার্টিন এবং গ্যারি বারলোর মতো পপ তারকারা বাসাতেই জ্যামিং সেশন স্থাপন করেছেন। লকডাউন শেষ না হওয়া অবধি প্রতি সপ্তাহে রেডিওহেড তাদের একটি করে কনসার্ট ফ্রি স্ট্রিম করতে শুরু করেছে।
আসলে মিউজিক থামেনি তবে কিছুটা কঠিন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
আর এসব মিউজিক করা হচ্ছে ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার জুম, স্কাইপ, গুগল হ্যাংআউটের মতো প্লাটফর্ম দিয়ে। কিন্তু মিউজিক করার জন্য এসব প্লাটফর্ম উপযুক্ত নয় বলে শিল্পীদের বক্তব্য।
সাউন্ডট্র্যাক নিয়ে কাজ করা পল রেনল্ডস বলছেন, এসব প্লাটফর্মে সাউন্ড একেবারে ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তবে পেশাদার হিসেবে ইন্টারনেট স্টুডিও জনপ্রিয় ও ভালো হয়ে উঠতে পারে বলে জানান তিনি।
একটি ভালোমানের স্টুডিও করতে ৫ লাখ পাউন্ড খরচ করলে সেটি দীর্ঘদিন চলে যায়। তবে বর্তমান মহামারিতে সঙ্গীতচর্চা অব্যহত রাখতে স্টুডিও করার জন্য খুব বেশি খরচ করতে হয় না বলে জানান পল।
এখন অনলাইলে কোনো কনসার্ট করা হলে সেটি একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা বা ভারতবর্ষেরও লাখ লাখ মানুষ অংশ নিতে পারছেন। এটা মানুষকে করোনাভাইরাসের প্রভাবে সৃষ্ট মানসিক দিক থেকে প্রশান্তি দিতে সক্ষম হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেক শিল্পী।
এর আগে গত শনিবার মধ্যরাত থেকে আট ঘণ্টার একটি ভার্চুয়াল কনসার্ট ‘দ্য ওয়ান ওয়ার্ল্ড : টুগেদার অ্যাট হোম’ আয়োজন করে গ্লোবাল সিটিজেন মুভমেন্ট। উদ্দেশ্য ছিল করোনাভাইরাস মোকাবিলায় অগ্রভাগে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা করার জন্য অনুদান সংগ্রহ।
সেই কনসার্ট থেকে ১৩ কোটি ডলারের আর্থিক অনুদান সংগ্রহ করা গেছে বলেও সেদিন জানায় আয়োজকরা।
রোলিং স্টোনসের সব সদস্য ও বিলি আইলিশসহ শতাধিক শিল্পী নিজেদের ঘর থেকে সংগীত পরিবেশন করেন। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার লড়াইয়ে থাকা নার্স ও ডাক্তারদের বাস্তব জীবনের গল্পও তুলে ধরা হবে ওই অনুষ্ঠানে।
তারপর থেকে যেনো আরও উদ্দমী হয়ে উঠেছেন বিভিন্ন দেশের শিল্পীরা। ঘরে থেকেই তারা অংশ নিচ্ছেন এমন আয়োজনে। / বিবিসি