যুক্তরাষ্ট্রের বিনোদন জগতের জনপ্রিয় তারকা বিল কসবি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। পেনসিলভানিয়া রাজ্যের ফেডারেল আদালত গত ৩০ জুন কসবির যৌন নিপীড়নের দণ্ড প্রত্যাহার করে নেন। আদালতের এই আদেশের পর ওই দিনই ফিলাডেলফিয়ার শহরের উপকণ্ঠের কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন ৮৩ বছর বয়সী কসবি।
মার্কিন শোবিজে কসবিকে একসময় শ্রদ্ধা-ভালোবাসার সঙ্গে ‘আমেরিকাস ড্যাড’ নামে অভিহিত করা হতো। জনপ্রিয় টিভি শো ‘দ্য কসবি শো’-এর সৌজন্যে তিনি লাখো মানুষের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছিলেন। তবে ২০০৪ সালে এক নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে কসবিকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া হয়। দুই বছরের কিছু বেশি সময় কারাবাসের পর তিনি মুক্তি পেলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও দণ্ড—উভয়ই প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
২০০৪ সাল থেকে একের পর এক নারী কসবির বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনতে থাকেন। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা কসবির জীবনে তখন থেকেই বিপর্যয় শুরু হয়। বিচারে ২০১৮ সালে কসবির কারাদণ্ড হয়। তিনি এই দণ্ড মেনেও নেন। ফিলাডেলফিয়ার উপকণ্ঠের এক নির্জন কারাগারে তাঁর স্থান হয়েছিল।
‘সিভিল’ মামলার সমঝোতায় দেয়া তথ্য কোনো ‘ক্রিমিনাল’ মামলায় ব্যবহার না করার বিষয়ে কসবির সঙ্গে প্রসিকিউটরের চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু এমন চুক্তি রক্ষা করা হয়নি বলে পেনসিলভানিয়ার উচ্চ আদালত কসবির দণ্ড বাতিলের নির্দেশ দেন। কারামুক্তির পর আমেরিকার একসময়ের জনপ্রিয় এই সেলিব্রিটির তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ভিক্টোরিয়া ভ্যালেন্টিনো নামের এক নারী বলেছেন, বিচারব্যবস্থার ফাঁকফোকরের কারণে একজন ‘ধর্ষক’ আজ মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াবেন! এ ঘটনাকে লজ্জাজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। ভিক্টোরিয়া অভিযোগ করেছিলেন, কসবি তাকে ১৯৬০ সালে ধর্ষণ করেন। ভিক্টোরিয়া বলেন, কসবি অন্তত ৬০ জন নারীকে যৌন নিপীড়ন করে তাদের জীবন দুর্বিষহ করেছেন।
জেনিস বেকার কিনি নামের অপর এক নারী অভিযোগ করেছিলেন, কসবি তাকে ১৯৮০ সালে ধর্ষণ করেছিলেন। জেনিস বলেন, কারাগার থেকে বেরিয়ে কসবির মুক্ত বাতাসে হেঁটে যাওয়া দেখে তিনি স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন।