করোনায় আক্রান্ত দেশবরেণ্য গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের শারীরিক অবস্থার অবণতি হয়েছে। তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। এখন ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে শিল্পীকে। রবিবার (১৯ জুলাই) রাতে গণমাধ্যমকে বাবার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে এ তথ্য দেন ফকির আলমগীরের ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব।
দেশবাসীর কাছে বাবার জন্য দোয়া চেয়ে মাশুক বলেন, রাত ১০টার আগে বাবার অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৪৫–এ নেমে আসে। চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত ভেন্টিলেশন নেওয়ার পরামর্শ দেন। ভেন্টিলেশনে নেওয়ার পর থেকে বাবা অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯০–এ উন্নীত হয়েছে।
এর আগে হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, ফকির আলমগীরের ফুসফুস ৬০ শতাংশ সংক্রমিত হয়েছে। যে কারণে নল দিয়ে তাকে তরল খাবার দিতে হচ্ছে।
গত দুদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফকির আলমগীরের মৃত্যুর গুজব ছড়ানো হচ্ছে।এ শিল্পীর সঙ্গে তোলা ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে অনেককেই তার রুহের মাগফিরাত কামনা করতে দেখা গেছে।
ফেসবুকের এসব পোস্টের বিষয়ে গত শুক্রবার শিল্পীর স্ত্রী সুরাইয়া আলমগীর জানিয়েছিলেন, ফকির আলমগীর বর্তমানে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি আছেন। গুজবে কেউ কান দেবেন না। আইসিইউতে থাকলেও তার চেতনা আছে।
ফকির আলমগীরের জন্য যে প্লাজমা দরকার ছিল তা পাওয়া গেছে বলে শুক্রবার রাতে জানিয়েছিলেন মাশুক আলমগীর।
তিনি সেদিন বলেছিলেন, তার বাবার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজেই হেঁটে বাথরুমে গিয়েছেন। দুদিন পর হঠাৎই শারীরিক অবস্থার ফের অবনতি ঘটল।
স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রেখেছেন ফকির আলমগীর। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তাঁর কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়।
এর মধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ১৯৮২ সালের বিটিভির আনন্দমেলা অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলে। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর। তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা, গণসংগীতচর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীতশিল্পী পরিষদের সাবেক সভাপতি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা ফকির আলমগীর গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখিও করেন। ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান’, ‘গণসংগীতের অতীvত ও বর্তমান’, ‘আমার কথা’, ‘যাঁরা আছেন হৃদয়পটে’সহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ হয়েছে তার।