বহুমাত্রিক ও প্রথাবিরোধী লেখক, ভাষাবিজ্ঞানী অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদের আজ ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট জার্মানির মিউনিখ শহরে তিনি মারা যান।
হুমায়ুন আজাদ ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল বিক্রমপুরের রাঢ়িখাল গ্রামে জন্ম নেন।
তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অলৌকিক ইস্টিমার' প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। মূলত কবি, গবেষক ও প্রাবন্ধিক হলেও নব্বইয়ের দশকে তিনি একজন ঔপন্যাসিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৯২ সালে প্রকাশিত প্রবন্ধের বই 'নারী', ২০০১ সালে সিমোন দ্য বোভোয়ারের গ্রন্থের অনুবাদ 'দ্বিতীয় লিঙ্গ' এবং ২০০৪ সালে 'পাক সার জমিন সার বাদ' উপন্যাসের জন্য মৌলবাদীদের রোষানলে পড়েন তিনি।
সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য হুমায়ুন আজাদ ১৯৮৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ২০১২ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর)সহ বিভিন্ন স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।
হুমায়ুন আজাদের প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে আছে—বাংলা ভাষা (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড), অলৌকিক ইস্টিমার, ৫৬ হাজার বর্গমাইল, সবকিছু ভেঙে পড়ে, রাজনীতিবিদগণ, একটি খুনের স্বপ্ন, পাক সার জমিন সাদ বাদ, রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তা, নারী, প্রতিক্রিয়াশীলতার দীর্ঘ ছায়ার নিচে, আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম, বাঙলা ভাষার শত্রুমিত্র, বাঙলা ভাষা (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড), ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, নিজের সঙ্গে নিজের জীবনের মধু, অলৌকিক ইস্টিমার, জ্বলো চিতাবাঘ, সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে, যতোই গভীরে যাই মধু যতোই ওপরে যাই নীল, শামসুর রাহমান : নিঃসঙ্গ শেরপা, কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু, বাক্যতত্ত্ব, তুলনামূলক ও ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান, শিল্পকলার বিমানবিকীকরণ ও অন্যান্য প্রবন্ধ, দ্বিতীয় লিঙ্গ, আমি বেঁচেছিলাম অন্যদের সময়ে প্রভৃতি।
২০০৪ সালে বাংলা একাডেমির অমর একুশে বইমেলায় ২৭ ফেব্রুয়ারি হুমায়ুন আজাদ জঙ্গি মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হন।