আজ শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ব ক্যান্সার দিবস। প্রতিবছর এই দিনে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়। ইউনিয়ন ফর ইন্টারন্যাশনাল ক্যান্সার কন্ট্রোল নামক একটি বেসরকারি সংস্থার নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপি দিবসটি উদযাপন করা হয়।যা আগে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন নামে পরিচিত ছিল। এর সদর দফতর জেনেভায়। ১৭০টিরও বেশি দেশে প্রায় দুই হাজার সদস্য রয়েছে সংস্থাটির।
মারাত্মক ও প্রাণঘাতী এই রোগের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে এবং আক্রান্তদের সাহায্য করার জন্য মানুষকে উৎসাহিত করা। ক্যান্সার একটি বড় রোগ, যার সময়মতো চিকিৎসা প্রয়োজন। প্রতিবছর বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে অনেক মানুষ এই মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বিশ্বের অনেক খ্যাতিমান ব্যাক্তি। যার মধ্যে বাংলাদেশের এন্ড্রু কিশোরও রয়েছেন। আরও আছেন চ্যাডউইক বসম্যান, ইরফান খানের মতো অনেক তারকা। আবার সাবিনা ইয়াসমিন, হিউ জ্যাকম্যান, মনীষা কৈরালার মতো অনেকেই জয় করে ফিরে এসেছেন ক্যান্সার থেকে। আজ ক্যান্সার জয়ী কয়েকজন তারকা নিয়ে আলোচনা করবো।
সাবিনা ইয়াসমিন
২০০৭ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। তার নন-হজকিন লিম্ফোমা ধরা পড়ে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হয় তাকে। চার মাস চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন এই গায়িকা।
সাইদুস সালেহিন খালেদ সুমন
‘বেসবাবা’ খ্যাত এক অদম্য যোদ্ধার নাম সুমন। ২০১১ সালে ‘অর্থহীন’-এর চতুর্থ অ্যালবাম মুক্তির সময় তার স্বাস্থ্যের অবনতি ধরা পড়ে। পরে জানা যায় তার পাকস্থলীতে ক্যান্সার হয়েছে। পাঁচ বছরে মোট ১২টি অস্ত্রোপচার করা হয়। এ ছাড়াও থাইল্যান্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন তিনি। তবে এ সবের কিছুই তাকে থামাতে পারেনি, প্রবল বিক্রমে গত বছর মঞ্চে ফিরেছেন।
মনীষা কৈরালা
২০১২ সালে জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন বলিউডের অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। রোগ ধরা পড়ার সময় মনীষা ছিলেন নিজের দেশ নেপালে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রে। রোগ থেকে সেরে উঠে ক্যান্সার সচেতনতা নিয়ে কাজ শুরু করেন মনীষা।
সোনালি বেন্দ্রে
২০১৮ সালে ‘সারফারোশ’ অভিনেত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। নেওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। প্রায় ছয় মাস চিকিৎসা শেষে সুস্থ হন তিনি।
অনুরাগ বসু
‘গ্যাংস্টার’, ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’, ‘বরফি’খ্যাত এই বাঙালি পরিচালক রক্তের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন ২০০৪ সালে। মুম্বাইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে হয় তার চিকিৎসা। তখন চিকিৎসকরা বলেছিলেন, মাত্র দুই মাস বাঁচবেন তিনি! তবে নিজের অদম্য মনোবল আর চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় কয়েক মাসে সুস্থ হয়ে ওঠেন। অনুরাগ এখনো দাপটের সঙ্গে ছোট ও বড় পর্দার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।