বিনোদন

কোকিলকণ্ঠী লতা মঙ্গেশকরের জীবনী

লতার জীবনী
লতার জীবনী

সংগীতের মহাতারকা লতা মঙ্গেশকরের চির বিদায়। আজ রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মধ্য মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

৪০০ এরও বেশি বাংলা গান গাওয়া এই শিল্পীর মৃত্যুতে ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও শোক জানিয়েছে। শোক বার্তা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ।

গানকে আজীবন ভালোবাসা এই মানুষটির জন্ম হয় ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে ১৯২৯ সালে। পিতা নাট্য অভিনেতা ও গায়ক পণ্ডিত দিননাথ মঙ্গেশক প্রথমে মেয়ের নাম রাখেন হেমা। পরে তা বদলে রাখা হয় লতা। ৫ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। বাবার মৃত্যুর পর ১৯৪২ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে মারাঠি সিনেমায় গান গেয়ে সংগীতজীবন শুরু হয় লতার। পরের বছর কণ্ঠে তোলেন হিন্দি সিনেমার গান।

১৯৪৯ সালে হিন্দি সিনেমা ‘মহলের’ ‘আয়েগা আনেওয়ালা’ গানটি আলোচনায় আসেন তিনি। ব্যাপক পরিচিতিও পান। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। লতার সুরেলা কণ্ঠের জাদুতে বুঁদ থেকেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।

সাত দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৩০ হাজারের বেশি গান রেকর্ড করার বিরল কৃতৃত্ব আছে তার। ৭০ বছরের গানের জীবনে শুধু যে গুণী ব্যক্তিদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তা নয়, ছোটখাটো থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

জীবনে বিয়ে করেননি তিনি। আজীবন গানকেই ভালোবেসে গেছেন এই কিংবদন্তি। বহু পুরস্কার ও সম্মাননা আছে তাঁর অর্জনের ঝুলিতে। ২০০১ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ভারতরত্নে পান। ১৯৯৯ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মবিভূষণ এবং ১৯৬৯ সালে তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণ অর্জন করেন। ২০০৭ সালে ফ্রান্স সরকার দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা লেজিওঁ দনরের অফিসার খেতাব প্রদান করে লতাকে।

এছাড়া দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার (১৯৮৯), মহারাষ্ট্র ভূষণ পুরস্কার (১৯৯৭), এনটিআর জাতীয় পুরস্কার (১৯৯৯), জি সিনে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার (১৯৯৯) এএনআর জাতীয় পুরস্কার (২০০৯), শ্রেষ্ঠ নারী নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী বিভাগে ৩টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ১৫টি বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার ও ফিল্ম ফেয়ার আজীবন সম্মাননা পুরস্কারসহ অসংখ্য অর্জন আছে লতার।

মধুমতি সিনেমার ‘আজারে পরদেসি’ গানের জন্য ১৯৫৮ সালে শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পীর পুরস্কার পান । বাংলায় তার অসংখ্য জনপ্রিয় গান আছে। তার কণ্ঠে স্থান পেয়েছে ৪০০ এরও বেশি বাংলা গান। এছাড়া বাংলাসহ ৩৬টি ভাষায় তিনি প্রায় প্রায় ৭ হাজার ৫০০টি গান গেয়েছেন।

‘পিয়া তোসে’ (গাইড), ‘আপ কি নজরো নে সমঝা’ (আনপড়), ‘লাগ জা গলে’, ‘নয়না বরসে রিমঝিম’ (উও কন থি), ‘তু জাহা জাহা চলে গা’ (মেরা সায়া), ‘চলতে চলতে’, ‘ইনহি লোগো নে’ (পাকিজা)-র মতো বিখ্যাত সব গানের জন্ম তার কণ্ঠেই।

জাদুকরী কণ্ঠের লতা মঙ্গেশকর চেয়েছিলেন নিজের মতো করে হারিয়ে যেতে। ৯২ বছর বয়সে তিনি চলে গেলেন পার্থিব এই মায়া ছেড়ে। কিন্তু যুগ যুগ ধরে তার কণ্ঠ বেঁচে থাকবে শ্রোতার মন-মননে। তার মারা যাওয়ার খবরে শোকাহত গুণী এই শিল্পীর ভক্ত অনুরাগীরা।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসক প্রতীত সমদানির তত্ত্বাবধানে ছিলেন লতা মঙ্গেশকর। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রয়াত সুরসম্রাজ্ঞীর জন্য চিকিৎকদের লড়াই কাজে এল না, কোটি কোটি অনুরাগীর প্রার্থনা বিফলে গেল। ৯২ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেলেন 'ভারতের কোকিলকণ্ঠী'।

লতা মঙ্গেশকরের মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছেন ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার এন সান্থানাম। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোভিড পরবর্তী জটিলতার ফলেই সকাল ৮টা ১২ মিনিটে মৃত্যু হল লতা মঙ্গেশকরের। আপতত তার দেহ শিবাজি পার্কে নিয়ে যাওয়ার আয়োজন করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, সেখানেই শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে লতা মঙ্গেশকরকে।

এএনআই এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারির শুরুতেই করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে লতার। করোনার মৃদু উপসর্গ থাকলেও নিউমোনিয়ার কারণে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর ৯ জানুয়ারি থেকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মাঝে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও হঠাৎ আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। টানা ২০ দিনের বেশি সময় হাসপাতালে ছিলেন লতা মঙ্গেশকর।

তবে শনিবার লতা মঙ্গেশকরের শারীরিক পরিস্থিতির আবার অবনতি হয়। এদিন দুপুরে চিকিৎসকেরা জানান, গায়িকার অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। এরপরই বরেণ্য এই শিল্পীর পরিবারের সবাই তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করতে থাকেন। চিকিৎসকেরাও চেষ্টা করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে চলে যান কিংবদন্তি এ শিল্পী। লতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমেছে ভারতসহ বাংলাদেশে। তার মৃত্যুতে আলাদা আলাদা শোক বার্তা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশটিভি/এমএস
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

দুর্গম চরে মৌসুমী

সরে দাঁড়ালেন সুনেরাহ

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে বাচসাস’র নবনির্বাচিত কমিটির শ্রদ্ধা

মাসুম আজিজের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ঢাকায় আসার অনুমতি পাননি নোরা ফাতেহি

অভিনেতা মাসুম আজিজ আর নেই

কবীর সুমন গাইবেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে

দুই সিনেপ্লেক্সসহ ২৮ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলো ‘রাগী’

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ