মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে বাংলা সংগীতের ৩ কিংবদন্তির বিদায়ে শোকাহত সংগীত প্রেমীরা। লতা মঙ্গেশকরের পর গতকাল (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিদায় নিলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। মৃত্যুর সেই খবরের কিছুক্ষণ পরই নতুন শোক সংবাদ এলো সংগীতাঙ্গনে। এবার না ফেরার পথে যাত্রা করলেন উপমহাদেশের আরেক প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী বাপ্পি লাহিড়ী। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে ভারতীয় সংগীত জগতের তিন নক্ষত্রের পতন হয়েছে।
৬৭ বছরে চলে যাওয়া বাপ্পি লাহিড়ীকে বলিউডের গোল্ডেন ম্যান বলা হত। কিন্তু কেন? তা নিয়েই আলোচনা হবে এই লেখায়।
অন্য তারকা গায়কের চেয়ে বাপ্পি কিছু কিছু বিষয়ে একেবারেই আলাদা ছিলেন। গানে তো বটেই, ব্যক্তিত্বেও তা ফুটে উঠতো। নন্দিত এই সংগীতশিল্পী সবসময় অনেকগুলো গয়না পরে থাকতেন। গলায় মোটা স্বর্ণের চেইন, ব্রেসলেট, আংটিতে ভরে থাকতো তার অঙ্গ। এটা তার প্রধানতম বৈশিষ্ট্য ছিল।
কিন্তু প্রশ্ন হলো এত গয়না পরতেন কেন বাপ্পী লাহিড়ী? এ প্রশ্নের জবাব জীবিত থাকাকালীন দিয়েছিলেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে কিংবদন্তি জানিয়েছিলেন, গহনার প্রতি ভালোবাসার প্রধান কারণ তিনি মার্কিন মিউজিশিয়ান এলভিস প্রেসলির দ্বারা অনুপ্রাণিত।
বাপ্পী লাহিড়ী বলেছিলেন, ‘মার্কিন গায়ক এলভিস প্রেসলি সোনার হার পরতেন। আমি প্রেসলির বড় ভক্ত ছিলাম। আমি ভাবতাম, যদি কোনো দিন সফল হই, তাহলে নিজের অন্যরকম ভাবমূর্তি গড়ে তুলব। ঈশ্বরের আশীর্বাদে সোনার মাধ্যমে সেটা করতে পেরেছি। আগে লোকে ভাবত, আমি সবাইকে দেখানোর জন্যই সোনার গয়না পরি। কিন্তু সেটা ঠিক না। সোনা আমার কাছে পয়া। আমার এগিয়ে যাওয়ার সাহস।’
ভারত ও বাংলাদেশে তুমুল জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাপ্পী লাহিড়ী। মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে ইতি ঘটেছে বাংলা ও হিন্দি সিনেমার গানের অবিস্মরণীয় এক অধ্যায়ের।
সত্তরের দশকের গোড়ার দিকেই সিনেমার গানে আত্মপ্রকাশ করেন বাপ্পী লাহিড়ী। তিনি একাধারে গানের সুর, সংগীতের পাশাপাশি গাইতেনও। অসংখ্য দর্শকপ্রিয় সিনেমার গান করেছেন তিনি। ভারতীয় সিনেমার গানে সিনথেসাইজড ডিস্কো ঘরানা জনপ্রিয় হয়েছে তার হাত ধরেই।
দুই বাংলার নন্দিত এই সংগীতশিল্পী সবসময় গয়না পরতেন। গলায় মোটা স্বর্ণের চেইন থাকতো সব সময়। হাতে থাকতো ব্রেসলেট ও আংটি। তার এই সময় বৈশিষ্ট্যের কারণে ভক্তরা তাকে বলিউডের গোল্ডেন ম্যান বলে থাকতেন।