বিনোদন

বাপ্পী লাহিড়ীর জীবনী

কিংবদন্তী সুরকার-গায়ক বাপ্পী লাহিড়ী
কিংবদন্তী সুরকার-গায়ক বাপ্পী লাহিড়ী

মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে বাংলা সংগীতের ৩ কিংবদন্তির বিদায়ে শোকাহত বাংলা সংগীত প্রেমীরা। লতা মঙ্গেশকর ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের পর পৃথিবীকে বিদায় জানালেন উপমহাদেশের আরেক প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী বাপ্পি লাহিড়ী।

৬৭ বছরে চলে যাওয়া বাপ্পি লাহিড়ীকে বলিউডের গোল্ডেন ম্যান বলা হত। অন্য তারকা গায়কের চেয়ে বাপ্পি কিছু কিছু বিষয়ে একাবেরই আলাদা ছিলেন। নন্দিত এই সংগীতশিল্পী সবসময় অনেকগুলো গয়না পরে থাকতেন। গলায় মোটা স্বর্ণের চেইন, ব্রেসলেট, আংটিতে ভরে থাকতো তার অঙ্গ। এটা তার প্রধানতম বৈশিষ্ট্য ছিল।

কিন্তু কেন পরতেন এমন প্রশ্নের জবাব জীবিত থাকাকালীন দিয়েছিলেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে কিংবদন্তি জানিয়েছিলেন, গহনার প্রতি ভালোবাসার প্রধান কারণ তিনি মার্কিন মিউজিশিয়ান এলভিস প্রেসলির দ্বারা অনুপ্রাণিত।

বাপ্পী লাহিড়ী বলেছিলেন, ‘মার্কিন গায়ক এলভিস প্রেসলি সোনার হার পরতেন। আমি প্রেসলির বড় ভক্ত ছিলাম। আমি ভাবতাম, যদি কোনো দিন সফল হই, তাহলে নিজের অন্যরকম ভাবমূর্তি গড়ে তুলব। ঈশ্বরের আশীর্বাদে সোনার মাধ্যমে সেটা করতে পেরেছি। আগে লোকে ভাবত, আমি সবাইকে দেখানোর জন্যই সোনার গয়না পরি। কিন্তু সেটা ঠিক না। সোনা আমার কাছে পয়া। আমার এগিয়ে যাওয়ার সাহস।’

ভারত ও বাংলাদেশে তুমুল জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাপ্পী লাহিড়ী। মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে ইতি ঘটেছে বাংলা ও হিন্দি সিনেমার গানের অবিস্মরণীয় এক অধ্যায়ের।

সত্তরের দশকের গোড়ার দিকেই সিনেমার গানে আত্মপ্রকাশ করেন বাপ্পী লাহিড়ী। তিনি একাধারে গানের সুর, সংগীতের পাশাপাশি গাইতেনও। অসংখ্য দর্শকপ্রিয় সিনেমার গান করেছেন তিনি। ভারতীয় সিনেমার গানে সিনথেসাইজড ডিস্কো ঘরানা জনপ্রিয় হয়েছে তার হাত ধরেই।

কিশোর কুমারের ভাগ্নে ছিলেন এই বাপ্পী লাহিড়ী। ১৯৭০ থেকে ৮০-এর দশকে হিন্দি ছায়াছবির জগতে অন্যতম জনপ্রিয় নাম বাপ্পি লাহিড়ি। ‘ডিস্কো ডান্সার’, ‘চলতে চলতে’, ‘শরাবি’-তে সুর দিয়েছেন। গেয়েছেন একাধিক গান। ২০২০ সালে তার শেষ গান বাগি- ৩ এর জন্য। বাবা অপরেশ লাহিড়ি ও মা বাঁশরী লাহিড়ি— দুজনেই সংগীত জগতের মানুষ। ফলে একমাত্র সন্তান বাপ্পি ছেলেবেলা থেকেই গানের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। মা, বাবার কাছেই পান প্রথম গানের তালিম।

১৯৫২ সালের ২৭ নভেম্বর জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বাপ্পি। তার পর দীর্ঘদিন বাংলা ও হিন্দি ছবির গান গেয়েছেন। সুর দিয়েছেন। শরীরে প্রচুর সোনার গয়না পরতে ভালোবাসতেন। ছিল গায়কির নিজস্ব কায়দা, যা তাকে হিন্দি ছবির জগতে অনন্য় পরিচিতি দিয়েছিল। পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার এবং সম্মান।

বাপ্পি লাহিড়ি রাজনীতিতেও নেমেছিলেন। বিজেপি-তে যোগ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে ভোটেও লড়েছিলেন। কিন্তু রাজনীতিতে কখনওই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেননি বাপ্পি।

বাপ্পি লাহিড়ি পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় শাস্ত্রীয় সংগীতে সমৃদ্ধ এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম আলোকেশ বাপ্পি লাহিড়ি। বাবা অপরেশ লাহিড়ি ছিলেন একজন বাংলা সংগীতের জনপ্রিয় গায়ক। মা বাঁশরী লাহিড়িও ছিলেন একজন সংগীতজ্ঞ ও গায়িকা যিনি শাস্ত্রীয় ঘরাণার সঙ্গীত এবং শ্যামা সংগীতে বিশেষ পারঙ্গমতা দেখিয়েছিলেন। তাদের পরিবারেরই একমাত্র সন্তান বাপ্পি লাহিড়ি।

৩ বছর বয়সেই তবলা বাজাতে শুরু করেন বাপ্পি। তার মায়ের আত্মীয় হিসেবে ছিলেন - বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী কিশোর কুমার এবং এস মুখার্জী। বাবা-মায়ের সান্নিধ্যে থেকেই তিনি সংগীতকলায় হাতে খড়ি ও প্রশিক্ষণ নেন। এরপর তিনি ১৯ বছর বয়সে দাদু (১৯৭২) নামক বাংলা চলচ্চিত্রে প্রথম কাজ করেন।

ব্যক্তিগত জীবন

বাপ্পি লাহিড়ি বিবাহিত ছিলেন। তিনি দুই সন্তানের জনক। স্ত্রী- চিত্রাণী, মেয়ে রিমা এবং ছেলে বাপ্পাকে নিয়ে তার সুখের সংসার ছিলো।

সংগীত জীবন:

বাপ্পি লাহিড়ি ১৯ বছর বয়সে মুম্বাইয়ে স্থানান্তরিত হন। ১৯৭৩ সালে হিন্দি ভাষায় নির্মিত নানহা শিকারী ছবিতে তিনি প্রথম গান রচনা করেন। এরপর তাহির হুসেনের জখমী (১৯৭৫) চলচ্চিত্রে কাজ করেন। এতে তিনি গীত রচনাসহ গায়কের দ্বৈত ভূমিকায় অংশ নেন। ‘অসম্ভব কিছু নয়’ শিরোনামে মোহাম্মদ রফি এবং কিশোর কুমারের সঙ্গেও দ্বৈত সংগীতে অংশ নেন। তার পরের চলচ্চিত্র হিসেবে চালতে চালতে ছবিটির গানও দর্শক-শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। রবিকান্ত নাগাইচের সুরক্ষা ছবিতে গান গেয়ে সংগীতকার হিসেবে জনপ্রিয়তা পান।

মিঠুন চক্রবর্তীর ডিস্কো নাচের চলচ্চিত্রগুলোতে তিনি সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮০'র দশকে মিঠুন চক্রবর্তী এবং বাপ্পি লাহিড়ি একসাথে বেশ কিছু ভারতীয় ডিস্কো চলচ্চিত্রে কাজ করেন। এ ছাড়াও তিনি দক্ষিণ ভারত থেকে পরিচালিত অনেক হিন্দি চলচ্চিত্রের গানে অংশ নিয়েছেন। সমগ্র ভারতবর্ষে তিনি নিজেকে ‘ডিস্কো কিং’ নামে পরিচিতি লাভে সমর্থ হন।

বাপ্পি ভারতীয় চলচ্চিত্র জগৎ থেকে ১৯৯০'র দশকে দূরে সরে যান। প্রকাশ মেহরা'র 'দালাল' ছবিতে স্বল্প সময়ের জন্য ফিরে আসেন।

সংগীত পরিচালনা:

বাপ্পি রচিত সংগীতগুলো বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম, একবার কহো (১৯৮০); সুরক্ষা; ওয়ারদাত; আরমান; চলতে চলতে; কমাণ্ডো; ইলজাম; পিয়ারা দুশমন; ডিস্কো ড্যান্সার; ড্যান্স ড্যান্স; ফিল্ম হি ফিল্ম; সাহেব; টারজান; কসম পয়দা করনে ওয়ালে কি; ওয়ান্টেড: ডেড অর এলাইভ; গুরু; জ্যোতি; নমক হালাল; শরাবী (১৯৮৫: ফিল্মফেয়ার সেরা সঙ্গীত পরিচালকের পুরস্কার); এইতবার; জিন্দাগী এক জুয়া; হিম্মতওয়ালা; জাস্টিস চৌধুরী; নিপ্পু রাব্বা; রোদী ইন্সপেক্টর; সিমহাসনম; গ্যাং লিডার; রৌদী অল্লাদু; ব্রহ্মা; হাম তুমহারে হ্যায় সনম এবং জখমী।

এ ছাড়াও তিনি মালায়ালম চলচ্চিত্র (কেরালা) দ্য গুড বয়েজ ছবির সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।

দেশটিভি/এমএস
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

দুর্গম চরে মৌসুমী

সরে দাঁড়ালেন সুনেরাহ

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে বাচসাস’র নবনির্বাচিত কমিটির শ্রদ্ধা

মাসুম আজিজের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ঢাকায় আসার অনুমতি পাননি নোরা ফাতেহি

অভিনেতা মাসুম আজিজ আর নেই

কবীর সুমন গাইবেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে

দুই সিনেপ্লেক্সসহ ২৮ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলো ‘রাগী’

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ