অভিনেতা ডিপজলের ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে দ্বন্দ্বে জড়ান চিত্রনায়ক ওমর সানী ও জায়েদ খান। এ নিয়ে দুইদিন ধরে আলোচনা-সমালোচনা চলছে চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু যাকে নিয়ে এই দুই চিত্রনায়ক দ্বন্দ্বে জড়ান সেই চিত্রনায়িকা মৌসুমী একটি অডিও বার্তা দিয়েছেন।
২ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের সেই অডিও বার্তায় মৌসুমী চিত্রনায়ক জায়েদ খান ইস্যুতে স্বামী ওমর সানির আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শুধু তা-ই নয়, এই ইস্যুতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক অডিও বার্তায় স্বামী ওমর সানীকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেছেন মৌসুমী।
অডিও বার্তাটি শুনেছেন চিত্রনায়ক স্বামী ওমর সানীও। বিষয়টি নিয়ে দেশের শীর্ষ একটি গণমাধ্যমকে ওমর সানী বলেন, ‘বিষয়টা হচ্ছে, মৌসুমীকে তো আমার সম্মান করতে হবে। আমাদের দুটি সন্তান আছে, ঘরে ছেলের বউ আছে। এটুকু বলতে পারি, জায়েদ ডিস্টার্ব করে কি না, সে বিষয়ে আমার ও আমার ছেলের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ আছে। আমি চাই না কাউকে লাঞ্ছিত করা হোক। এটার (বাবা মিথ্যাচার করেছে কি না) সম্পূর্ণ ভালো উত্তর দিতে পারবে আমার ছেলে ফারদিন এহসান স্বাধীন ও মেয়ে ফাইজা আবিহা। তারা বলুক, তাদের আমি বলার স্বাধীনতা দিয়েছি এ ব্যাপারে। পরিবারের প্রতি আমার অবশ্যই সম্মানবোধ আছে। আমার স্ত্রী কী বলেছে, তা আমি দেখেছি। কিন্তু আমাদের কাছে জায়েদ খানের ডিস্টার্বের এভিডেন্স আছে।’
কথায় কথায় ওমর সানী জানান, দেড় মাসের মতো তাঁরা দুজন এক ছাদের নিচে একই বাড়িতে থাকলেও তাঁদের দেখা হয় না। কথা হয় না। ওমর সানী বলেন, ‘একই ছাদের নিচে বসবাস করেও গত দেড় মাসের ওপর হয়ে গেছে আমাদের ফোনেও যোগাযোগ নেই। একই বাড়িতে আছি। চেষ্টায় আছি। তাকে আমি সম্মান করেই কথা বলব, কারণ সে আমার সন্তানের মা, আমার স্ত্রী। তাই এর চেয়ে বেশি কথা বলতে আমি পারব না।’
ওমর সানী এও বলেন, ‘আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি আমার পরিবারকে। ২৭ বছর ধরে শ্রদ্ধা করে এসেছি এবং বাংলাদেশের মানুষও জানে। আমার দুর্ভাগ্য, ২৭ বছর পরে এসে আমার শ্রদ্ধার জায়গাটায় কী গুনাহ করলাম, তা জানি না। যাই হোক, আল্লাহ মহান, আমি যে কথাগুলো জায়েদ খান সম্পর্কে বলেছি, আমি বারবার একটা কথাই বলেছি, আমার এবং আমার ছেলে ফারদিনের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ এভিডেন্স আছে। আমার পরিবারের পাঁচজন সদস্য-আমি, মৌসুমী, আমার ছেলে ফারদিন, বউমা আয়েশা, মেয়ে ফাইজাসহ আরও লোকজন আছে। তারা স্ট্যান্ডবাই আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। আমার আত্মীয়স্বজন আছে। সবাই আছে। এ ব্যাপারে আমার যা বলার বলে ফেলেছি।’
মৌসুমীর বক্তব্যের বিপরীতে তাঁকে অসম্মান করা হয়-এমন কোনো বক্তব্য দেবেন না জানিয়ে ওমর সানী বলেন, ‘আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধা জানাই আমার স্ত্রীকে, সম্মান জানাই আমার ছেলে-মেয়েকেও। আমি মৌসুমীর ব্যাপারে বাজে কোনো মন্তব্য করব না। আমি মনে করি না।’
মৌসুমীর বক্তব্যের জবাব দেওয়া প্রসঙ্গে সানী বলেন, ‘কিন্তু এগুলোর উত্তর আমার এবং আমার ছেলের কাছে আছে, জায়েদ খানের ব্যাপারে। এর যথেষ্ট প্রমাণ ফারদিন ও ফাইজার কাছে আছে। ফাইজা ও ফারদিন বাকি উত্তরগুলো দেবে। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে তার মায়ের সঙ্গে কী উত্তর দেবে, আর তোমাদেরই (সাংবাদিকদের) কী উত্তর দেবে। আমি এ বিষয়ে নীরবতা পালন করলাম।’