পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইন করার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা—সেইসঙ্গে পরীক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারেরও পরামর্শ তাদের। বুধবার সচিবালয়ে শিক্ষাবিদদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর জরুরি বৈঠকে এসব কথা উঠে এসেছে।
আর তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক বিষয় নিয়ে শিক্ষাবিদদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী।
সচিবালয়ে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে শিক্ষাবিদদের পক্ষ থেকে শিক্ষার মান, প্রশ্নপত্র ফাঁস, মাদ্রাসা শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাই আলোচনায় প্রাধান্য পায়।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, এ সভায় শিক্ষাবিদদের পক্ষ থেকে শিক্ষার মান, প্রশ্নপত্র ফাঁস, মাদ্রাসা শিক্ষা, পরীক্ষাপদ্ধতিসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আইটির ব্যবহার ও সাজাও বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আর কোনো বেসরকারি মেডিকেল ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত নয় বলে পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
পাশাপাশি বিদ্যমান ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে বিতরণ পর্যন্ত প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারেরও পরামর্শ দেন অধ্যাপক জাফর ইকবালসহ আরো অনেকে।
পরে ব্রিফিং-এ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, এরইমধ্যে এ ঘটনায় কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
মতবিনিময় সভায় ৫০ জনের বেশি শিক্ষাবিদ অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক রেহমান সোবহান, সালাউদ্দিন আহমেদ, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, রফিকুল ইসলাম, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, এম এম আকাশ, মুনতাসীর মামুন প্রমুখ।