চাকরি স্থায়ীকরণ ও বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করছে।
বেরোবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম নুর-উন-নবী শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মতো নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ রয়েছেন।
চাকরি স্থায়ীকরণ ও ১৪ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে ১৩৮ জন কর্মকর্তা- কর্মচারী উপাচার্যকে অবরুদ্ধ রেখেছেন।
এদিকে, অবস্থান ধর্মঘট পালনকালে তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তারা হলেন: কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান, কর্মচারী গোলাম রব্বানী ও লায়লা বেগম। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সরকার বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ১০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ প্রদান করেছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও উপাচার্য তাদের বেতন-ভাতা প্রদান করছে না। এরপরও এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। বেতন না পেয়ে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল জলিল মিয়া দায়িত্বে থাকাকালে ৩৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগ দেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন ছাড়া নিয়োগ হওয়ায় তাদের নিয়োগ অনুমোদন করেনি মঞ্জুরি কমিশন। এ কারণে তাদের বেতন-ভাতাও বন্ধ রয়েছে।
ওবায়দুর জানান, পরবর্তীতে অধ্যাপক ড. একেএম নুর-উন-নবী উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর পদ সৃষ্টি করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন নিয়ে ২০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি স্থায়ী করেন। তবে ১৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, ১৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি স্থায়ী ও বকেয়া বেতন-ভাতার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত উপাচার্যকে অবরুদ্ধ রেখে অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।