রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৬১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে। এ সময় পতাকা উত্তোলন, সাদা পায়রা-বর্ণিল ফেস্টুন ওড়ানো, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন করা হয়।
রোববার সকাল ১০ টা ৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন চত্বরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা এবং প্রাধ্যক্ষবৃন্দ নিজ নিজ হলের পতাকা উত্তোলন করেন। তারপর শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা ও বর্ণিল বেলুন-ফেস্টুন ওড়ানো হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-২ আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।
এছাড়াও প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন কমিটির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান, বিশ্ববিদ্যালয় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সায়েন উদ্দিন আহমেদ, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মু. এন্তাজুল হক, ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক ছাদেকুল আরেফিন, প্রক্টর অধ্যাপক তারিকুল হাসান, জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক ইলিয়াছ হোসেন, রাবির প্রাক্তন উপাচার্য ও যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রাক্তন হাইকমিশনার অধ্যাপক সাইদুর রহমান খান, বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও রাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল ইসলাম ঠাণ্ডুসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এরপর সিনেট ভবন চত্বরে স্মারক বৃক্ষরোপণ করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সকাল সাড়ে ১০ টায় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রা শেষে সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, 'রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরবঙ্গের বাতিঘর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় দেশের ক্রান্তি লগ্নে আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে এ বিশ্ববিদ্যালয়।'
আগামী দিনেও পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, 'রাবি ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক হানাহানির ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আতঙ্ক দূর করতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।'
আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে প্রথম ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাবিকে গড়ে তুলতে কাজ চলছে বলে জানান উপাচার্য।
প্রসঙ্গত, ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই মাত্র ১৬১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় উত্তরবঙ্গের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।