ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৮৪.৫৪ %, চট্টগ্রামে ৭০.০৬,% দিানাজপুরে ৭৪.১৪%, রাজশাহীতে ৭৮. ৫৫%, সিলেটে ৭৯.১৬, কুমিল্লায় ৭০.১৮%, বরিশাল বোর্ডে ৭১.৭৫% এবং যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬০.৮৫%।
মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৯৪.০৮% এবং কারিগরি বোর্ডে ৮৫.০২%। বুধবার সারাদেশে এক যোগে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
যশোর: ৬০.৫৮%।
এ বোর্ডে পাসের হার ৬০.৫৮। আর বোর্ড সেরা ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ।
এবারে উচ্চ মাধ্যমিক- এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডে ৬০.৫৮ ভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। অপরদিকে বোর্ডে শীর্ষস্থান দখল করেছে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২৩১ জন।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী এবার এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ড থেকে অংশগ্রহণ করেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৮১৫ জন। এরমধ্যে উর্ত্তীণ হয়েছেন ৬৯ হাজার ৫৫০ জন। এরমধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ২৩১ জন। এছাড়া খুলনার এমএম সিটি কলেজ দ্বিতীয়, যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ তৃতীয়, মিলিটারি কলেজিয়েট কলেজ খুলনা চতুর্থ এবং খুলনা পাবলিক কলেজ পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে।
রাজশাহী:৭৮.৫৫%
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড থেকে পাসে হার বাড়লেও কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা। এবার এ বোর্ডের ৬৬১টি কলেজ থেকে ৮৭ হাজার ৭২০ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। পাসের হার ৭৮.৫৫% যা গতবারের তুলনায় এক শতাংশ বেশি। এদিকেম ৭ হাজারের মতো পরীক্ষার্থী গতবারের তুলনায় এবার বেশি হলেও জিপিএ-৫ কিছুটা কমেছে। এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে ৭ হজার ৬৪১ জন শিক্ষার্থী- যা গতবারের তুলনায় ২৫ জন কম।
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে সেরা ২০ কলেজের তালিকায় প্রথম হয়েছে রাজশাহী কলেজ। এছাড়া আরো ছয়টি কলেজ রয়েছে সেরা বিশের তালিকায়।
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে ৭০.৬ %।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ৭০.০৬% শিক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৬ ৪৬ জন শিক্ষার্থী । এ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার বাড়লেও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।
এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৬৪৬ জন। যা গতবারের চেয়ে ১২৬ জন কম। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল দুই হাজার ৭৭২ জন। অন্যদিকে গতবার পাসের হার ছিল ৬১.২২ %।
পয়েন্টের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বোর্ডে সেরা হয়েছে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম কলেজ ও তৃতীয় স্থানে সরকারি বাণিজ্য কলেজ। সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পেয়েছে সরকারি হাজি মুহাম্মদ মহসিন কলেজের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পীযুষ দত্ত।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এবার ৭৭ হাজার ৭৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৭৭ হাজার ৫২৬ জন। এরমধ্যে পাস করেছে ৫৪ হাজার ৩১২ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৬৯.৩৯% এবং ছাত্রীদের ৭০.৭০%।
সিলেট সিলেটে ৭৯.১৬%।
সিলেট শিক্ষাবোর্ডে পাসে হার শতকরা ৭৯.১৬ ভাগ। বোর্ডে জিপিএ ৫ পেয়েছে মোট ২০৭০ জন শিক্ষার্থী। গতবছর এ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৯.১৩%।
সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মান্নান খাঁন জানান, সিলেটে এবার প্রথম স্থান অধিকার করেছে জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দ্বিতীয় সিলেট ক্যাডেট কলেজ এবং তৃতীয় হয়েছে এমসি কলেজ। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ হয়।
কুমিল্লা কুমিল্লায় ৭০.১৮%।
বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৭০.১৮ ভাগ। জিপিএ- ৫ পেয়েছে ২৬ ০০ জন। কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ২০১৪ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। পাসের হার শতকরা ৭০.১৪ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬০০ জন। এ বোর্ডের ফলাফলে প্রথম হয়েছে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ, ২য় হয়েছে ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ, এবং তৃতীয় হয়েছে কুমিল্লা ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
এ বছর এ বোর্ডের আওতাধীন কলেজ সমুহ থেকে ১লাখ ৩ হাজার ২৫৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এরমধ্যে ৭২৪২৬ জন উত্তীর্ণ হন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ৫০ হাজার ৮৪ জন ছাত্র এবং ৫৩ হাজার ১৭৫ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৮৬৩ জন ছাত্র এবং ৩৬৫৬৩ জন ছাত্রী উত্তীর্ণ হন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬০০ জন। এবার বোর্ডের ৮টি কলেজ শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। শূন্য ভাগ পাস কলেজ ১টিও নেই।
ঢাকা: পাসের হার ৮৪.৫৪ %।
এ বোর্ডে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় টানা ৪র্থ বারের মতো দেশ সেরা হওয়ার সাফল্য ধরে রেখেছে রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ। তবে এক সময়ের দেশ সেরা নটর ডেম কলেজ এবার ঢাকা বোর্ডের সেরা পাঁচের মধ্যেও নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে পারি নি। ঢাকা বোর্ডে এবার প্রথম হয়েছে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ২য় নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ, ৩য় আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ৪র্থ ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজ, ৫ম ভিকারুন নিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৬ষ্ঠ স্থান পেয়েছে নটর ডেম কলেজ। চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৭৮.৩৩% শিক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০ হাজার ৬০২ জন। বুধবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফল হস্তান্তর
বরিশাল: এ শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৭১.৭৫%।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৪তম এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এ বছর পাসের হার ৭১.৭৫। যা বিগত যে কোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ।
এ বছর ২৭৩ কলেজের ৮৯টি সেন্টারে ৫৫ হাজার ৭৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৫৪৯১৫ জন, জিপিএ পেয়েছে ২,২২৫ জন।
এ বছর ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের ফলাফল তুলনামূলক ভালো। মেয়েদের ২৭ হাজার ৪৮২ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২৭ হাজার ৭৪ জন, জিপিএ পেয়েছে ১২০১ জন, পাসের হার ৭২.৮০।
ছেলেদের ২৮ হাজার ২৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৭ হাজার ৮৪১ জন পাস করেছেন। জিপিএ পেয়েছে ১০২৪ জন, পাসের হার ৭০.৭৩
ফলাফলে শতভাগ পাস করেছে ও মেধা তালিকায় প্রথম দিকে রয়েছে বরিশাল ক্যাডেট কলেজ।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে অমৃতলাল মহাবিদ্যালয় ও সরকারি মহিলা কলেজ।
বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার গুলী আউলিয়াপুর মডেল সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১৮ জন পরীক্ষার্থী, ও পিরোজপুর জেলার নেসারবাদ উপজেলার দৈহারী মহাবিদ্যালয়ে ৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কেউ পাস করেনি। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ শাহ আলমগীর সকাল ১০টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
দিনাজপুর: ৭৪.১৪%।
শিক্ষাবোর্ডের পাসের হার ৭৪.১৪, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৪৭৪ জন।
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৭৪.১৪%। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৪৭৪ জন শিক্ষার্থী।
দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তোফাজ্জুর রহমান জানান, চলতি বছরে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের ৮টি জেলা থেকে ৯৮ হাজার ২৮৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৭৪.১৪% শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করেছেন। দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এবারে প্রথম স্থান অধিকার করেছে রংপুর ক্যান্ট: পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে রংপুর ক্যাডেট কলেজ ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে দিনাজপুর হলিল্যান্ড কলেজ।
এক নজরে সব বোর্ডের পাসের চিত্র:
ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৮৪.৫৪ %, চট্টগ্রামে ৭০.০৬,% দিানাজপুরে ৭৪.১৪%, রাজশাহীতে ৭৮. ৫৫%, সিলেটে ৭৯.১৬, কুমিল্লায় ৭০.১৮%, বরিশাল বোর্ডে ৭১.৭৫% এবং যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬০.৮৫%।
মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৯৪.০৮% এবং কারিগরি বোর্ডে ৮৫.০২%।
শিক্ষামন্ত্রী বেলা ১টায় মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এবারের বিস্তারিত ফলাফল তুলে ধরেন। এছাড়া (www.educationboardresults.gov.bd) ওয়েবসাইট থেকেও সব বোর্ডের ফল জানা যাবে।
মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে এইচএসসির ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৪ লিখে ১৬২২২ নম্বেরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেয়া হবে।
আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ ১০ বোর্ডে এবার ১১ লাখ ৪১ হাজার ৩৭৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৬ হাজার ২৯ এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৮১ জন। গত ৩ এপ্রিল তত্ত্বীয় পরীক্ষা শুরু হয়ে চলেছে ৫ জুন পর্যন্ত। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা ৭ জুন শুরু হয়ে ১৬ জুন শেষ হয়। এবার ২৫টি বিষয়ে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলা প্রথমপত্র, রসায়ন, পৌরনীতি, ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসায় উদ্যোগ ও ব্যবহারিক ব্যবস্থাপনা, সমাজবিজ্ঞান এবং কম্পিউটার শিক্ষা প্রথম ও দ্বিতীয়পত্রসহ মোট ২৫টি বিষয়ে এবার সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা হয়।