যুদ্ধাপরাধের রায়কে কেন্দ্র করে জামাতের ডাকা লাগাতার হরতালে স্থবির হয়ে পড়েছে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে ঊচ্চশিক্ষার পরীক্ষার সময়সূচি। বারবার পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বিভিন্ন স্তরের প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থীর জীবন। হরতালের কারণে এখনও শুরু করা যায়নি জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা।
মঙ্গলবার দেশ টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে সংশ্লিষ্টরা বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেই বারবার শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
হরতালের নামে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক পন্থা হতে পারে না বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
প্রায় তিন মাস আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার তারিখ ২ নভেম্বর ঘোষণা করে। তবে জামাতের লাগাতার হরতালের কারণে এ পরীক্ষা শুরুই করতে পারেনি তারা।
যুদ্ধাপরাধ মামলায় মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ডের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতি, রবি ও সোমবার হরতাল পালন করে জামাত। এর দু'দিন পর কামারুজ্জামান এবং মীর কাসেম আলীর একই দণ্ডের প্রতিবাদে বুধ ও বৃহস্পতিবারও হরতালের ডাক দেয় তারা।
চার দিন হরতালের কারণে জেএসসি ও জেডিসির মোট ৯টি পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া হয়। সেইসঙ্গে গত এক সপ্তাহে পাবলিক পরীক্ষাসহ কমপক্ষে ১১টি পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। অচল হয়ে পড়েছে শ্রেণী কার্যক্রম, মডেল টেস্ট ও পরীক্ষা।
লাগাতার হরতাল দিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত করার অধিকার কোনো রাজনৈতিক দলের নেই বলে মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী।
এদিকে, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকারের দোহাই দিয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা গ্রহণযোগ্য নয়।
গণ্ডিবদ্ধ চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের নতুন উপায় অনুসন্ধানের পরামর্শ দেন তারা।