রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম শফিউল ইসলাম হত্যার ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তাদের ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রোববার রাতে মতিহার থানায় মামলা হয়।
শিক্ষক হত্যার ঘটনায় শোকবিক্ষুব্ধ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ রয়েছে সকল ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা।
শিক্ষক সমিতির ডাকা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচিও পালন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সকালে শোকর্যােলি ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, গত এক দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ে খুন হলেন ৩ জন শিক্ষক। তারা সবাই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মনে করছেন, তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা একসূত্র গাঁথা।
শনিবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে মোটর সাইকেলে করে বাসায় ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর এ কে এম শফিউল ইসলামকে কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়।
এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে রোববার রাতে ৮ জনসহ এ পর্যন্ত ২৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। অবশ্য এদের মধ্যে ১৪ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
অধ্যাপক শফিউল হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, মানববন্ধন, শোকর্যাালী ও কালোব্যাজ ধারন কর্মসূচি পালন করছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ও শিক্ষার্থীরা। শোকের পাশাপাশি পুরো ক্যাম্পাস বিক্ষোভে উত্থাল।
এরআগে, ২০০৬ সালে খুন হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এস তাহের। ওই ঘটনায় রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল শিবিরের তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতিসহ ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়। ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি অর্থনীতির অধ্যাপক ড. ইউনুস খুন হন। এ হত্যার ঘটনায় জেএমবির দুই সদস্যেকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রতিটি ঘটনার শিকার হচ্ছেন প্রগতিশীল শিক্ষকরা। আর এসব ঘটাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি জামাত-শিবির চক্র।