রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফিউল ইসলাম হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সন্দেহে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে গণমাধ্যমের সাম সামনে হাজির করেছে র্যা ব।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা আব্দুস সামাদ পিন্টু ও মূল হত্যাকারী কাটাখালী পৌর যুবদল নেতা আরিফুল ইসলাম মানিকসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় তারা।
এ হত্যাকাণ্ডের আরেক পরিকল্পনাকারী রাজশাহী জেলা যুবদলের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলকে খুঁজতেও অভিযান চলছে বলে জানায় র্যা বের মিডিয়া উইংয়ের লিগ্যাল পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান।
র্যা বের জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছে, পিন্টুর স্ত্রীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় শফিউলকে তারা হত্যা করেছে।
এদের মধ্যে রাজশাহীর কাটাখালীর পৌর যুবদলের নেতা আরিফুল ইসলাম মানিকের পরিকল্পনা এবং তার নেতৃত্বে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফিউলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে র্যা বের দাবি।
আটক বাকি পাঁচ জন হলেন- পিন্টু, টোকাই বাবু, মামুন, কালু, সবুজ।
আটককৃতদেরকে নিয়ে রোববার দুপুরে র্যা ব সদরদপ্তরে ব্রিফিং করা হয়।
পরে আটককৃতদের মধ্যে অভিযুক্ত মূল হত্যাকারী আরিফুল ইসলাম মানিক গণমাধ্যমের সামনে হত্যাকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরেন।
সকালে র্যা বের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে ঢাকা ও রাজশাহীর বিভিন্ন স্থান থেকে এ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের সবাইকে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে। ২ দফায় আবারো ৭ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ।
রোববার সকালে অধ্যাপক শফিউল ইসলাম হত্যার প্রতিবাদে রাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এসময় বক্তারা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান।
এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবিতে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, গতকাল রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশের এক অনুষ্ঠানে হত্যা মামলার তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে বলে জানান পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার।
তিনি বলেন, মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
গত শনিবার রাবি সিনেট সদস্য ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক একেএম শফিউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। বিশ্ববিদ্যালয় হাউজিং সোসাইটি (বিহাস) এলাকায় বাড়ি ফেরার পথে কে বা কারা তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শফিউলের ইসলামের ছেলে সৌমিন শাহরিদ জেভিনও তার বাবার হত্যায় ইসলামী জঙ্গি সংগঠনগুলোর জড়িত থাকার সন্দেহের কথা বলেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘণ্টা পাঁচেক পর আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২ নামে একটি ফেইসবুক পৃষ্ঠায় অধ্যাপক শফিউলকে ইসলামবিরোধী আখ্যা দিয়ে তাকে হত্যার দায় স্বীকার করা হয়।
ওই ফেইসবুক পৃষ্ঠা কারা চালাচ্ছে সে তথ্য উদঘাটন করতে না পারলেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিহার থানার ওসি আলমগীর হোসেন গত শুক্রবার বলেন, আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ একটি নতুন সংগঠন বলে তাদের ধারনা। এ হত্যাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হত্যার ঘটনা নতুন নয়। ২০০৬ সালে খুন হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এস তাহের। ওই ঘটনায় রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল শিবিরের তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতিসহ ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়। ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি অর্থনীতির অধ্যাপক ড. ইউনুসকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যার ঘটনায় জেএমবির দুই সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
প্রসঙ্গত: শনিবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম শফিউল ইসলামকে কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়।