দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) দুই ছাত্রলীগ নেতার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার ও উপাচর্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ছাত্র ধর্মঘটের দশম দিন (বুধবার) পাড় করলেও এ অচল অবস্থা দেখার কেউ নেই।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেয়া নোটিশে ছাত্রলীগের আত্মপক্ষ সমর্থনে ছয় দিন সময় পেলেও তার কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম অনিশ্চিতায়।
গত ১৭ নভেম্বর সকাল থেকে এ ধর্মঘট শুরু করেছে তারা। এ কর্মসূচির ফলে গত ৯ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। আর যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৩ জনকে কেন স্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হবে না এ মর্মে কর্তৃপক্ষ কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করলেও আত্মপক্ষ সমর্থনের আরও ৬ দিন সময় পেয় তারা। নোটিশের জবাব দেয়ার পর থেকেই আন্দোলন কর্মসূচি আরও কঠোর করা হবে বলে জানায় ছাত্রলীগ।
উল্লেখ্য, গত ৪ নভেম্বর হাবিপ্রবিতে ২০১৫ শিক্ষাবর্ষের অনার্স ১ম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষায় ১০৩ নং কক্ষে অত্যাধুনিক মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার করে নকল করার সময় রংপুরের পীরগাছা এলাকার আবুল হোসেন লিটন নামে একজনকে অটক করে দায়িত্বরত শিক্ষক। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হাবিপ্রবির কর্তৃপক্ষ ওই দিন বিকেলে বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অরুন কান্তি রায় সিটন ও আবাসিক হল ডি ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি এসএম জাহিদ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে। ওই ২ ছাত্রলীগ নেতাকে বহিস্কারের প্রতিবাদে তারা রাত থেকেই প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে।
পরের দিন বুধবার সকাল থেকেই তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও, সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।