কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাসচাপায় তৌহিদুর রহমান টিটু নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটনার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এরইমধ্যে শিক্ষার্থীদের দেয়া হয়েছে হল ত্যাগের নির্দেশ।
রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হাকিম সরকারের সভাপতিত্বে এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ছাত্রদের এবং আগামীকাল সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে দুটি বাসের মাঝখানে চাপা পড়েন টিটু। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১১-১২ সেশনের ছাত্র।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরীক্ষা শেষে ঝিনাইদহের মহেশপুরে বাড়িতে ফেরার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন টিটু। তখন ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়া একটি বাস ও উল্টো দিক থেকে আসা অন্য একটি বাসের মাঝখানে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
টিটু নিহত হওয়ার খবরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবন, প্রশাসনিক ভবন ও ক্যাম্পাসে থাকা গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া করা কমপক্ষে ১৫টি বাসে আগুন দেয়া হয়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। তবে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত রয়েছে। বর্তমানে প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেমে থেমে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ চলছে।
ইবির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হাকিম সরকার এ দুর্ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন।
তিনি জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রক্টরিয়াল বডিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীর বিরুদ্ধে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্যবস্থা নেয়া হবে।
টিটুর মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রাখা হয়েছে।