রাজধানীর মতিঝিল সরকারি উচ্চ বালক ও বালিকা বিদ্যালয়ে নতুন বছরের নতুন পাঠ্যপুস্তক বিতরণ উৎসব শুরু হয়েছে। পহেলা জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিনে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, হরতালের মধ্যেও বই উৎসবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি প্রমাণ করে দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোনো জায়গা নেই। ২০০৯ সালেও শিক্ষার্থীদের টাকা দিয়ে বই কিনতে হতো। তবে বর্তমান সরকারের সময় প্রথম থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে বই পাচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
তিনি আরো বলেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধের জাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার এ উৎসবের আয়োজন করেছে।
পাঠ্যপুস্তক উৎসব উপলক্ষে রাজধানীর ভিকারুন নিসা নূন স্কুল অ্যাণ্ড কলেজ ও সিদ্ধেশ্বরী স্কুলেও নতুন বই তুলে দেয়া হয় শিক্ষার্থীদের হাতে।
এ বছর বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ৩২ কোটি ৬৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৩টি বই ছাপানো হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে মোট ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৪ জন ছাত্র-ছাত্রীর হাতে বই তুলে দেয়া হবে।
এছাড়াও দেশব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণীর সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেয়া হবে ৩২ কোটির বেশি নতুন বই। সারাদেশে স্কুল-মাদ্রাসায় একযোগে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়া হচ্ছে।
নতুন নতুন নানা রঙের বইয়ে বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে প্রচ্ছদ, অলঙ্করণ ও বানানের ক্ষেত্রেও। অনুসরণ করা হয়েছে বাংলা একাডেমির প্রমিত বানান রীতি। এবারই প্রথমবারের মতো নবম শ্রেণীতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং অষ্টম শ্রেণীতে কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা বিষয় চালু করা হয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩০ ডিসেম্বর গণভবনে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য নতুন বই তুলে দিয়ে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করেন।