ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই শুরু হচ্ছে বাঙালির প্রাণের মেলা ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৫’। মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গতবারের মত এবারও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ছাপিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে একুশের বইমেলার পরিসর। মেলা প্রাঙ্গণে চলছে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। থাকছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
চুয়াত্তরের পর এবারই প্রথম দেশি-বিদেশি লেখকদের নিয়ে থাকছে চার দিনব্যাপী সাহিত্য মেলা। পুরো ফেব্রুয়ারিজুড়ে লেখক-প্রকাশক আর বইপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর থাকবে মেলা প্রাঙ্গণ।
রাত পোহালেই এই চত্বর মুখরিত হয়ে উঠবে বই পিপাসুদের পদচারণায়। তাই অমর একুশে গ্রন্থমেলা ঘিরে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এবারের মেলায় সাড়ে তিনশো প্রকাশকের সাড়ে পাচশো স্টল থাকছে।
প্রথমবারের মত থাকছে ১১টি মিনি প্যাভিলিয়ন। বিশেষ আয়োজন হিসেবে থাকছে দেশি ও ৫০ জন বিদেশি লেখকের সমন্বয়ে সাহিত্যমেলা। বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এবার থাকছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাসব্যাপী এ মেলার সার্বিক নিরাপত্তায় ১০০ টি সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে র্যা ব, পুলিশ,আনসার, গোয়েন্দা সংস্থাসহ একাডেমির নিরাপত্তা কর্মীরা।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি কাজ করছে সেনাবাহিনীও। একুশের বইমেলাকে ঘিরে বইপ্রেমীদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরী হয় এবারের বইমেলা পুরোপুরিভাবেই তা পূরণে সক্ষম হবে বলে মনে করেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।
প্রকাশকদেরও প্রত্যাশা প্রতিবারের মত এবারও বইমেলা থাকবে সকল বৈরী রাজনৈতিক আবহের বাইরে। গেল বছরের বই মেলায় নতুন বই এসেছিল প্রায় তিন হাজার। আর বিক্রি হয়েছিল সাড়ে ১৬ কোটি টাকার বই।
নতুন বইয়ের প্রকাশ এবং বিক্রি, দুটোতেই এবার গেল বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।